বরিশালে কাঁচ ঘেরা অভিজাত হোটেল এরিনার ৫ম তলার কাঁচ ভেঙ্গে নীচে পরে যুবক নিহত ॥ বন্ধু শওকত আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশালের অভিজাত হোটেল এরিনা (প্রাঃ) লিমিটেডের ৫ম তলার ৫০৭ নম্বর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের কাঁচ (গ্লাস) ভেঙ্গে এক ব্যক্তি নীচে রাস্তায় পড়ে নিহত হয়েছে। গত রবিবার দিবাগত রাত আড়াই টায় এই ঘটনায় নিহতের বন্ধু ওই কক্ষের আরেক বোর্ডার শওকতকে পুলিশ আটক করেছে। নিহত সুমন সিকদার (৩৫) নগরীর কাশীপুর ফিশারী রোডের আহসান মঞ্জিলের এবং আটক শওকত বগুড়া রোডের বাসিন্দা। তারা পরস্পরের বন্ধু বলে জানিয়েছে। হোটেল কক্ষ থেকে মদের বোতল তাস ও টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এরিনা হোটেলে রাতের ইনচার্জ মো. মাহমুদ জানান, রবিবার দুপুরের দিকে ইমরান হোসেন, পিতা আফতাব হোসেন, নথুল্লাবাদ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ৫০৭ নম্বর ডিলাক্স কক্ষ ভাড়া নেয়। তার সাথে ছিল আরেক বন্ধু শওকত। রবিবার দিনে এবং রাতে তাদের আরো অনেক বন্ধু ওই কক্ষে যাওয়া আসা করে এবং তাস-জুয়া খেলে। রাতে তারা মদ পান করে। রাত আড়াইটার দিকে কাঁচ ভাঙ্গা শব্দ এবং বিকট শব্দে নীচের রাস্তায় কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ পেয়ে তারা হোটেলের পাশে রাস্তায় গিয়ে দেখেন এক ব্যক্তি রক্তাত্ব অবস্থায় ছটফট করছে।

পরে হোটেলের লোকজন পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করে। সুমন সিকদারের বন্ধু শওকতকে আটক করে মাহমুদ জানিয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে থাকাবস্থায় মো. শওকত জানায়, তারা রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর দেখেন তার বন্ধু সুমন ভয় পেয়ে অস্বাভাবিক আচরন করছে। এক পর্যায়ে সুমন নিজেই কাঁচে ঘেরা হোটেলের কাঁচ ভেঙ্গে নীচে লাফিয়ে পড়ে। শওকত ওই রাতে হোটেল কক্ষে জুয়া খেলা কিংবা মদ পান করার কথা অস্বীকার করে। তবে তার কথাবার্তা পুলিশের কাছে অসংলগ্ন মনে হয়।

শেরেবাংলা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের (পুরুষ) সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ধনঞ্জয় দে বিপ্লব জানিয়েছেন, নিহত সুমন সিকদার উপর থেকে নীচে পড়েছে। এতে তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্বক আঘাত লেগে ক্ষতের সৃস্টি হয়েছে। মস্তিস্কে রক্ত ক্ষ্মরনের কারনে প্রানপন চেস্টার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি, তার ৪টার দিকে সে মারা যায়। তবে কাঁচ ভেঙ্গে তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে নাকি নিজেই কাঁচ ভেঙ্গে লাফিয়ে পড়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসক।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মেট্রোপলিটনের কোতয়ালী মডেল থানার এটিএসআই মো. নাঈম জানিয়েছেন, রাতে হোটেল কক্ষে তারা কয়েক বন্ধুরা মিলে মদ পান করে জুয়া খেলেছে। ঘটনার পর হোটেল কক্ষে তার বন্ধু শওকতের কথায় অমিল থাকায় তাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছে পুলিশ।
এদিকে ওই ঘটনার পর হোটেলে দায়িত্বরতরা সাংবাদিকদের হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। এমনকি ওই কক্ষটি দেখতে চাইলেও তারা মালিকের নিষেধ আছে বলে সাংবাদিকদের ফিরিয়ে দিয়েছে।