বরিশালে অনাবাদী জমির পরিমাণ বাড়ছে

এম হোসেন॥ কৃষি কাজে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা। এতে কৃষি জমির জরিমান কমে যাচ্ছে। বাড়ছে অনাবাদি জমির পরিমান। গত ৬ বছরে ৭হাজার ৩শ ৫৫ একর জমির আবাদ কমে গেছে। কৃষি পন্য দ্রব্যাদির ক্রমশ দাম বৃদ্ধি এবং সময় মতো এসব পন্য দ্রব্য না পাওয়াই এর হেতু দাবী সংশ্লিষ্টদের। বরিশাল পরিসংখ্যান অফিসসূত্রে জানা গেছে ২০০৯ সালে অস্থায়ী ফসল আবাদ হয়েছে ৪লক্ষ ২শ ১৬ একর জমিতে। অথচ ২০১০ সালে এই জমির পরিমান দাড়িয়েছে ৩লক্ষ ৯৯ হাজার ৫শ ৯৩ একর। যা এক বছরে আবাদী জমির পরিমান কমেছে ৫শ ২৩ একর জমির। ২০১১ সালে অস্থায়ী ফসল আবাদ হয়েছে ৩লক্ষ ৯৮ হাজার ৩শ ৪৬ একর জমির। যা গত বছরের তুলনায় ১হাজার ৩শ ৪৭ একর জমির আবাদ কমেছে। ২০১২ সালে অস্থায়ী ফসলের আবাদ হয়েছে ৩লক্ষ ৯৬ হাজার ৭শ ৬৩ একর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ১হাজার ৫শ ৪৩ একর জমির আবাদ কমেছে। ২০১৩ সালে স্থায়ী ফসলের আবাদ হয়েছে ৩লক্ষ ৯৬ হাজার ৭শ ৬৩ একর জমির। যা গত বছরের তুলনায় মাত্র ১ একর জমির আবাদ কমেছে। ২০১৪ সালে অস্থায়ী ফসলের আবাদ হয়েছে ৩লক্ষ ৯২ হাজার ৮শ ৬১ একর জমির। যা গত বছরের তুলনায় ৩হাজার ৯শ ৫ একর জমির আবাদ কমেছে। অর্থাৎ গত ৫ বছরের তুলনায় ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালে এই অনাবাদি জমির পরিমান বেড়েছে সর্বাধিক হারে। জানা গেছে, কৃষি কাজের পন্যে অতীব গুরুত্বপূর্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী পাচ্ছে না। উন্নত ফলনের জন্য আধুনিক কোনো সরঞ্জামাদি পাচ্ছে না বরিশাল জেলার কৃষকরা। যা পাচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। বরিশাল অঞ্চলে কৃষি কাজের অনুকূল সময়ে প্রতি বছরই সারের প্রতিকূলতা দেখা দেয়। অধিক মাত্রায় দাম দিয়ে ক্রয় করতে হয় প্রয়োজনীয় সার। এছাড়া কীটনাশক জাতীয় ঔষধের দাম প্রতিনিয়ত দৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি কাজ করা অনেকের কাছে ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। যার ফলে আগ্রহ হারাচ্ছে বরিশাল কৃষকরা। গত কয়েক বছরে বরিশাল জেলায় অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক ইটের ভাটা নির্মান হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। যার প্রভাব পড়েছে কৃষি শস্যের উপর। অর্থাৎ আবাদী ফসলের উপর। এ কারনে পূর্বের চেয়ে প্রতিনিয়তই আবাদী জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটছে। এতে কৃষির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। নদী ভাঙন একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে এই অঞ্চলে। এর কারনে ব্যাপক আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।বরিশাল কর্ণকাঠি এলাকার কৃষক জালাল আহমেদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমরা কৃষি শস্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। সময় মতো প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন জমির উর্বরতা কমে গেছে এবং পূর্বে যে জমিতে ১-২ কেজি সার ব্যবহার করতাম সেখানে এখন ৩-৪ কেজি সার ব্যবহার করতে হয়। এ ব্যাপারে বরিশাল কৃষি তথ্য সেবার কর্মকর্তা সাইফ ইবনে রফিক পরিবর্তনকে জানান, নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মান, নদী ভাঙন এবং রাস্তা ঘাট নির্মানের ফলে আবাদী জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন অপরিকল্পিত ইটের ভাটা নির্মানেও কৃষির উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।