বরিশালের পশুর হাটে আসছে বিশালাকার গরু ও ছাগল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর কোরবানীর পশুর হাটে উট কিংবা দুম্বার অস্থিত্ব নেই। কিন্তুউট ও দুম্বার মত গরু-ছাগলের সন্ধান মিলেছে। যার মূল্যও হাকানো হয়েছে লাখ টাকা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত নগরী সহ সদর উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৪টি হাটে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ লাখ টাকা দরে গরুর এবং এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছাগলের দাম হাকানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সাড়ে ৬ লাখ টাকা দাম হাকানো গরুটির সাড়ে ৩ লাখ এবং ছাগলটির ৬০ হাজার টাকা দর উঠেছে বলে দাবী করেছেন বেপারীরা।
এদিকে পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রত্যেকটি হাটেই ছোট গরু থেকে বিশাল আকারের ষাড় এবং ছাগল উঠেছে। দেশী হলেও বিশাল আকারের গরু এবং ছাগলগুলোর বেশিরভাগই ফার্মের বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
হাটের ইজারাদারদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিসি’র ৭টি এবং সদর উপজেলার ৭টি মিলিয়ে মোট ১৪টি হাটেই বড় ধরনের গরুর আমদানী হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যের গরু উঠেছে নগরীর কাউনিয়া টেক্সটাইল, সিএন্ডবি সড়কের উপজেলা পরিষদের সামনে এবং বরিশাল-ঝালকাঠি সড়কের রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকার পশুর হাটটিতে। কাউনিয়া টেক্সটাইলের হাটে একটি ষাড়’র দাম হাকানো হয়েছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা। ষাড়টি সাতক্ষীরা থেকে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
ষাড়’র মালিক আলম বেপারী জানান, তার নিজস্ব ফার্মে একই রকমের ৮টি লালন পালন করেছেন। ওই ৮টি গরুর আকার এবং গঠন একই রকমের। তবে এর মধ্যে সব থেকে বড় তিনটি গরু ঢাকার রাজধানীর গাবতলীতে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচটির মধ্যে একটি বরিশালে এবং চারটি অন্যান্য হাটে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি গরু ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে।
গরুর ব্যাপারী আলম আরো বলেন, বরিশালে যে গরুটি নিয়ে এসেছেন তার মূল্য এখন পর্যন্ত সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ গরুটিতে ১৭ মনের বেশি মাংস হবে। এজন্য ৬ লাখের নিচে গরুটি বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
অপরদিকে নগরীর নগরীর সিন্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদের সামনের অস্থায়ী হাটটিতে একটি গরুর মুল্য হাকানো হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুটির দাম ওঠেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উত্তরাঞ্চল থেকে নিয়ে আসা এই গরুটিতে কমপক্ষে ১৫ মন মাংস হবে বলে দাবী করেছেন গরুর সংশ্লিষ্ট ব্যাপারী।
এছাড়া রূপাতলী উকিলবাড়ি সড়ক সংলগ্ন হাটে দেখা গেছে, হাটটিতে বড় ধরনের গরুর ছাগলও রয়েছে। এখানে একটি ছাগলের মূল্য হাকানো হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ছাগলের মালিক চেরাগ আলী বলেন, ছাগলটি ফার্মে লালন পালন হয়েছে। চার মনের বেশি মাংস হতে পারে। এখন পর্যন্ত ছাগলটির মূল্য ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এক লাখ ৩৫ হাজারের নিচে ছাগলটি বিক্রি করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে হাটের ক্রেতারা বলছেন, হাটে পশুর যে মূল্য হাকানো হয়েছে তা ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অতিরিক্ত দাম হাকিয়ে দালালদের মাধ্যমে চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইজারাদাররা। যে কারনে বড় আকারের গুরুগুলো তেমন বিক্রি হচ্ছে না। ক্রেতাদের ধারনা ঈদের একদিন আগে হলেও কোরবানীর পশুর দম কমবে। সেই অপেক্ষাতেই আছেন ক্রেতারা।