বরিশালের জাতীয় পার্টি এরশাদেই আস্থাশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে দুই নেতার বহিস্কার নিয়ে নিয়ে সৃষ্ট কোন্দল ও ক্ষোভের আগুন থেকে মুক্ত বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। এখানকার নেতারা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহুাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ও সিদ্ধান্তে আস্থাশীল। সকল নেতাকর্মী একতাবদ্ধভাবে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। যার ধারাবাহিকতায় বরিশাল মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনে প্রায় প্রতিদিনই কর্মীসভা করছে আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ। আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব বশির আহম্মেদ ঝুনু বলেন, জাতীয় পার্টির বরিশালের নেতাকর্মীরা ধারা বা গ্রুপের বিশ্বাসী নয়। সকলে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সকল সিদ্ধান্ত সঠিক হিসেবে পূর্বেও মেনেছে, বর্তমানে অবিচল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে দাবী করেন ঝুনু। তিনি সংসদের উপনেতা হবেন সেটাই স্বাভাবিক। চেয়ারম্যান তাকে উপনেতা করার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর জাপার নেতা ঝুনু। গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক আজকের পরিবর্তনকে তিনি বলেন,  প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সংসদের বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙার বিষয়ে কথা হয় তার সাথে। এই বিষয়ে বলেন পর্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান অবশ্যই বহিস্কার করতে পারেন। তাদের বর্তমান আচার-আচরন পার্টির শৃংঙ্খলা ভাঙার মধ্যে পড়ে বিধায় বহিস্কার করেছেন জানিয়ে ঝুনু বলেন , চেয়ারম্যান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই দুই নেতা বহিস্কারের পর থেকে যারা মন্তব্য ও কর্মকান্ডের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা প্রমান করেছেন যে পার্টির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে ছোট করতে তারাই কাজ করছেন। তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙার সমালোচনা করে বলেন, তারা ভুলে গেছেন চেয়ারম্যান ও পার্টির জন্য তারা আজ নেতা। এমপি হয়ে সংসদের চীফ হুইপ ও অপরজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও জাতীয় পার্টির পরিচয় ছাড়া ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় তারা এমপি হতে পারবেন না বলে দাবী করেন ঝুনু। তারা যে এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সেই সব এলাকায় জাতীয় পার্টি সংগঠিত শক্তি। সেখানে চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির আকাশ সমান জনপ্রিয়তা। সেখানে ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় তারা জয়ী হননি। বর্তমানে দলীয় কর্মকান্ডে সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের নিস্ক্রিয়তা সম্পর্কে বলেন। তিনি ক্ষোভে একটু দূরে আছেন। তবে চেয়ারম্যানের প্রতি আনুগত্য রয়েছে বলে দাবী করেন ঝুনু। সাবেক মহাসচিবের সমালোচনা করে বলেন, তিনি যুগেরও বেশি সময় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তিনি জাতীয় পার্টির নেতৃত্বকে বিকশিত করতে পারেননি। তাকে পরিবর্তন করা সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে ৩ মাসের মধ্যে সকল ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের কাজ তারা করছেন বলে জানান ঝুনু। তিনি বলেন এখানকার সকল নেতাকর্মী চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে অবিচল ও আনুগত্য থাকবে। আমাদের নেতা এরশাদ। তাই তার হাতকে শক্তিশালী করতে আহবায়ক কমিটি কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করছেন সকল নেতাকর্মীরা। তার কারনে মহানগরের ১৫ ওয়ার্ডে কর্মীসভা সম্পন্ন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। এরপরে কাউন্সিলের মাধ্যমে মহানগরে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। মহানগরের আহবায়ক কাউন্সিলর একেএম মুরতজা আবেদীন বহিস্কার হওয়াতে দুই নেতা গেলে কিছুই হবেনা। এরশাদ এরশাদই তার কোন বিকল্প নেই। তিনি নদী আর বহিস্কৃত নেতারা ভেসে যাওয়া কচুড়িপানা। প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি গোলাম বিকরিয়া টিপু বলেন, বস(এরশাদ) ইজ অলওয়েজ রাইট।