বরিশালের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা জমিয়েছে ১০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাংলাদেশে ব্যাংকের উদ্যোগে স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স বা সঞ্চয়ী হিসাব খোলার মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর বগুড়া রোড বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন চত্বরে এ মেলা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহনে স্কুল ব্যাংকিং মেলার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিশু একাডেমির মহাপরিচালক কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর শাখার মহা-ব্যবস্থাপক মনোজ কুমার বিশ্বাস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখার মহা-ব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম কাজী’র স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে দিন ব্যাপী মেলা এবং অনুষ্ঠান কর্মসুচি শুরু করা হয়। এসময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন- স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি রূপালী ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান ও মহা. নাজিমুদ্দিন।
অনুষ্ঠানে স্কুল ব্যাংকিং বিষয়ক ভিডিও চিত্র ‘স্বপ্ন’ প্রদর্শন এবং ঢাকা ও বরিশালের শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। দিনব্যাপী এই মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সরকারী-বেসরকারী ৩৮টি ব্যাংকের শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে আসা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্বৃত টাকা জমানোর কথা বলেছেন। কেউ কেউ এসেছেন স্কুল ব্যাংকিং সম্পর্কে ধারনা নিতে। আবার কেউ এসেছেন সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে।
মেলায় স্টল নিয়ে আসা এনআরবিসি ব্যাংকের স্থানীয় ব্যবস্থাপক জিকেএএম মাকসুদ-বিন হারুন বলেন, স্কুল ব্যাংকিং মেলায় স্টল দিয়ে তারা বেশ ভাল সাড়া পেয়েছেন। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক এবং ব্যাংকিং নিয়ে যে ভীতি ছিল, সেই ভীতি কেটে গেছে। তাদের জমানো টাকা ভবিষ্যতে জাতীয় বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
মেলার আয়োজক বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখা ব্যবস্থাপক মো. নূরুল আলম কাজী জানালেন, এই মেলার মাধ্যমে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ী মনোভাব তৈরী হবে। তাদের আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে তারা স্কুলের বেতন দিতে পারবে। তাদের বিভিন্ন বৃত্তির টাকা জমাতে পারবে। এতে তারা ক্লাশে আরো বেশী মনোযোগী হতে পারবে। জমানো টাকা দিয়ে আগামীতে তারা শিক্ষা উপকরন কিনতে পারবে এবং উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পারবে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে ইতিমধ্যে বরিশালে সঞ্চয়ী হিসাব খুলেছে ৩০ হাজার ক্ষুদে শিক্ষার্থী। তাদের মোট জমানো টাকার পরিমান ১০ কোটি। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ১০০ টাকা দিয়ে যে কোন সময় সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারবে।