বরফ উৎপাদন বন্ধ ভোগান্তিতে পোর্ট রোডে ইলিশ ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কোন ঘোষনা ছাড়াই ভর মৌসুমে নগরীর বরফ কল মালিক সমিতি তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছে ইলিশ মোকাম পোর্ট রোডের ব্যবসায়ীরা। মাছ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে বরফ কল মালিকদের সিন্ডিকেট গতকাল মঙ্গলবার থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে মৎস্য মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ দাবি করেছে।
মৎস্য মালিক সমিতির সভাপতি অজিত দাস ও সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল জানায়, ১০ অক্টোবর নদীতে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মোকামে প্রচুর তাজা ইলিশ এসেছে। কিন্তু এখানকার বরফকল মালিক সমিতির সিন্ডিকেটের বরফ উৎপাদনের রোটেশন প্রথার কারনে চাহিদা মেটাতে পারেনি। এই কারনে খুলনা থেকে বরফ আনে ভাঙ্গা কল মালিকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোন আলোচনা বা ঘোষনা দেয়া ছাড়াই বরফ উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
এই কারনে এখানের আড়তদার ও পাইকাররা মাছ পচে গিয়ে বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির হুমকিতে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মোকামে দেড় হাজার মন মাছ নিয়ে এসেছে জেলে ও পাইকাররা। যার মূল্য ১০ কোটি টাকার মতো। ওই সব মাছ পচে গেলে ব্যবসায়ীদের পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। অনেক ব্যবসায়ী তাদের মাছ রক্ষায় ঝুঁকি নিয়ে খুলনা থেকে কিছু বরফ এনেছে।
বরফ ছাড়া মাছের কোন মূল্য নেই বুঝতে পেরে তাদের জিম্মি করার অভিযোগ করেছেন তারা। এমনকি বরফ কল মালিক সমিতি সিন্ডিকেট বিষয় নিয়ে সমাধানের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।
তাদের খামখেয়ালীর কারনে জেলে পাইকাররা ইলিশ মোকামে আসা বন্ধ করবে। এতে মোকামের উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবার অর্থ সংকটে পড়বে।
বরফ ভাঙ্গা কল মালিক মো. সেলিম বলেন, সারা বছর তাদের কাছ থেকে বরফ নেয় আড়তদার ও পাইকাররা। এখানের উৎপাদন করা বরফ বর্তমানে চাহিদা মেটেনি। পাইকার ও আড়তদারদের দেড় থেকে দুই কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তে দুই ট্রাকে বরফ আনা হয়। এই জন্য তারা বরফ দেয়া বন্ধ করে সকলকে ভোগান্তিতে ফেলেছে।
আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানায়, এখানে বরফকল মালিক সমিতির সিন্ডিকেট রোটেশন প্রথায় বরফ উৎপাদন করে। এক দিনে তাদের সকল কল চালু করে না। প্রত্যেক দিন দুই থেকে তিনটি কল চালু থাকে।
নিষেধাজ্ঞার সময় বরফ কল বন্ধ থাকলেও ২৭ হাজার ক্যান তাদের কাছে মজুদ ছিল। সেই বরফ নিজেদের ট্রলারে দিয়ে মাছ সংগ্রহে পাঠিয়েছে। নতুন করে বরফ উৎপাদন করতে ব্যর্থতায় খুলনা থেকে আনানোর বিষয়টি নিয়ে এই কান্ড করা উচিত হয়নি।
নিজেদের স্বার্থের জন্য আড়তদার, পাইকার ও শ্রমিকদের বিপদে ফেলেছে।
বরফ কল মালিক সমিতির সভাপতি খান কামাল বলেন, বিদ্যুত বিলের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত বরফ দিয়ে বিল দেয়া সম্ভব হয় না। প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির কারনে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।