ববির রেজিষ্টার কক্ষে হামলা ভাংচুরের প্রকৃত ঘটনা আড়াল হওয়ার আশংকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আজ দ্বিতীয় দফায় বসছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)’র তদন্ত কমিটি। সহকারী রেজিষ্ট্রারের উপর হামলার ঘটনায় গঠিত এ তদন্ত কমিটি প্রথম ১৯ জনের স্বাক্ষ গ্রহন শেষ হলেও প্রস্তুত করতে পারেননি প্রতিবেদন।
এদিকে আজ দ্বিতীয় দফায় তদন্ত কমিটি বসলেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহা দেখা দিয়েছে। কেননা এক শিক্ষকের সামনে শিক্ষার্থীরা অপর শিক্ষকের বিরুদ্ধে কতটা সঠিক স্বাক্ষ্য দিতে পারবে তাই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের জুনে এক গ্রুপ বখাটে শিক্ষার্থীরা রেজিষ্ট্রার কক্ষে সহকারী রেজিষ্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপসহ অন্যান্য কর্মচারীদের উপরে হামলা চালায়। এতে সহকারী রেজিষ্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপ আহত হয়।
এ ঘটনায় দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আন্দোলন শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবশেষে ববি উপাচার্জ প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ খান এ ঘটনায় ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর মোঃ হানিফকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু কমিটির মেয়াদ প্রায় তিন মাস হয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত প্রস্তুত হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন। তবে তদন্ত কার্যক্রমের মধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে।
এদিকে আজ দ্বিতীয় দফায় তদন্ত কমিটি স্বাক্ষ্য গ্রহন করবেন। ববি’র একাধিক শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তারা জানায়, তদন্ত কার্যক্রম কতটা কার্যকর এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কি স্বাক্ষ্য দিবে তাই এখন প্রধান ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা অভিযোগ তুলে বলেন, সহকারী রেজিষ্ট্রার ও কর্মচারীদের উপরে মারধরের ঘটনায় শিক্ষকদের ইন্ধন থাকতে পারে। আর তাদের ইন্ধনের বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে সুস্পষ্ট ভাবে কোন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সাহস করে স্বাক্ষি দিতে পারবে তা এখন ভাববার বিষয়। এর কারন হিসেবে তারা বলেন, তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছে শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি। আর তাদের সামনে একজন শিক্ষক এর বিরুদ্ধে কোন ছাত্রই ভয়ে মুখ খোলার সাহস বা রাজি হচ্ছে না। কেননা প্রকাশ্যে শিক্ষকদের সাথে বিরোধীতা করতে গেলে তার প্রতি শিক্ষকরা বিরুপ অবস্থানে যেতে পারে এমনটি ভেবে। তদন্ত কমিটি শিক্ষকদের বাদ দিয়ে করা হলে পকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত বলে মনে করেন অনেক কর্মচারীরা।
তবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম খুব সুষ্ঠু ভাবেই হচ্ছে। এ নিয়ে কারো মনের মধ্যে সন্দিহা থাকাটা ঠিক নয়। কেননা তদন্তে স্বাক্ষ্য গ্রহনের ক্ষেত্রে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের যথেষ্ঠ স্বাধীনতা দেয়া হচ্ছে।