ববি’র অচলাবস্থার অবসান ঘটছে আজ !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। আজ সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাবেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তাদের দাবী দাওয়া নিয়েও কথা বলবেন। তবে এর পূর্বে গতকাল রোববার রাতেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সংগ্রাম কমিটি। রাতে নগরীর সার্কিট হাউস এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এবং সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ। তবে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নয় বরং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর পূর্বে গত ২২ জুলাই থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারন অন্যথায় ২২ দফা বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছিলো শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুচ, বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম  ইমামুল হক, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান, নিবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম আব্দুর রউফ, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক এসএম ইকবাল, মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ একেএম জাহাঙ্গীর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ দুলাল, সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক মিন্টু কুমার রায়, জাসদ নেতা আব্দুল হাই মাহবুব, বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস প্রমুখ।
এর পূর্বে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হক এর বিরুদ্ধে জনবল নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা অনুসরন না করার প্রতিবাদে আন্দোলনের ডাক দেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক সংগঠনের সমন্বয়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবীতে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এই কমিটির ব্যানারে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনার পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পক্ষে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে ছাত্রলীগের বাঁধায় তা পন্ড হয়ে যায়। তবে এর পরদিনে থেকেই শুরু হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারন দাবীতে সাধারন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট। গত ৮ দিন যাবত ক্লাস এবং সব ধরনের পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে দাবী আদায়ে শ্লোগান দেয় তারা। তাছাড়া সর্বশেষে গত ২৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২২ দফা দাবী তুলে উপাচার্যকে একটি চিঠি প্রদান করা হয়। উপাচার্য তাদের দাবীর মধ্যে থেকে যৌক্তিক দাবীগুলো মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে রেজিষ্ট্রারের মাধ্যমে পাল্টা চিঠি পাঠান। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসি’র প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একই সাথে ভিসিকে দাবী আদায়ে আল্টিমেটাম দেয়। সে অনুযায়ী গতকাল রোববার স্ব-শরীরে শিক্ষার্থীদের কাছে হাজির হয়ে দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ার কথা ছিলো ভিসি’র। কিন্তু তিনি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেখানে যাননি।
সর্বশেষ শোকাবহ আগস্ট মাসকে সামনে রেখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট দূর করতে উদ্যোগী হন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার রাতে সার্কিট হাউস মিলনায়তে তারা সমঝোতা বৈঠকে বসে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা ইমরান হোসেন নাঈম বলেন, আমাদের ২২ দফা দাবী মেনে নেয়ার বিষয়ে ভিসিকে যে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিলো তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে আসেননি এবং কথা শোনেননি। তবে আজ সোমবার সকাল ১০টায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের দাবী দাওয়া শুনবেন এবং এর সমাধান দিবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন ওই ছাত্রলীগ নেতা।