ববিতে চাটুকারদের দাপট, প্রতিবাদীরা কোনঠাসা

পরিবর্তন ডেক্স॥ সৎ, দক্ষ ও আদর্শের মূল্যায়ন নেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব গুনের অধিকারীদের কোনঠাসা হয়ে থাকতে হয়। কারনে অকারনে তাদের নাজেহাল হতে হয়। প্রতিবাদ করলে সমস্যায় পড়তে তাদের। যার প্রমান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক বিভাগের ডিন ড. মুহসিন উদ্দিনের পদত্যাগ। যিনি ক্যাম্পাসে সৎ, আদর্শ ও দায়িত্বশীলতায় অনন্য হিসেবে পরিচিত। সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক হিসেবে যথেষ্ট সুখ্যাতি থাকা এই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। কল্পনার শেষ নেই। ক্যাম্পাসে ছাত্র শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হলে তিনি বরিশালের ছেলে হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। শুরুটা ভালো কাটালেও তার ন্যায় ও সততাই কাল হয়েছে। বছর খানেক রেজিষ্ট্রারের (চলতি) দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাকে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, দুর্নীতি সহ্য করতে না পেরেই সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। গত বছর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ৭/৮ জন শিক্ষকদের পদে উন্নতি হয়েছে। তারা প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। তিনিও পদোন্নতির জন্যে আবেদন করেছিলেন। সব রকম কার্যপ্রনালী সম্পন্ন করেন তিনি। অথচ তার জন্যে পদোন্নতি কমিটি পর্যন্ত করা হয়নি। তার মেধা মূল্যায়ন না করে তাকে আপমানিত করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তাকে বিভিন্ন সময় অন্যায় অপবাদ দিয়ে কোনঠাসা করে। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবোর্ডের ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির উপলক্ষে সাবেক কলা ও মানবিক বিভাগের ডিন ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি গনিত বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মোঃ শফিউল আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের কাছে যান। সেখানে শিক্ষকদের একটি দাবি ববির ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্নপত্র প্রত্যেক শিক্ষককে তৈরি করার অধিকার দেয়া হয়। সর্বশেষ ববির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে প্রশ্নটি বাছাই করে ভর্তি পরিক্ষার জন্য নির্বাচন করবে। অবশ্য এই নিয়মটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। এ কথা গুলো কলা ও মানবিক বিভাগের ডিন ভিসিকে বললে তিনি রেগে আগুন হয়ে বলেন, আপনি সকল বিশৃংখলার মূল। সব ঝামেলা আপনি করেন। এখন কলা ও মানবিক বিভাগের ডিন প্রতিউত্তরে বলেন তাহলে আমি যে পদগুলোতে আছি সেসব পদ থেকে আমি পদত্যাগ করি। তখন উপচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। অপরদিকে মেধাবী শিক্ষকরা অন্যত্র যাওয়ার চেস্টা করেছেন। অনেক শিক্ষক ইতিমধ্যে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।