বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লঞ্চঘাট এলাকায় দখল ও সাবলেট বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় বন্দর কর্মকর্তার নেতৃত্বে চলছে দখল ও সাবলেট বাণিজ্য। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারী জমিতে পাকা ভবনের স্টল নির্মান করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন’র দুর্নীতিবাজ কিছু নেতাদের যোগ সাজসে তিনি এমন দুর্নীতিতে মেতে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারী জমিতে স্টল নির্মাণ এবং সাবলেট বাণিজ্য নৌ-মন্ত্রনালয় এবং অধিদপ্তরের শীর্ষ নেতাদের অনুমতি সাপেক্ষে করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তবে এর বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নগরীর বিআইডব্লিউটিএ এলাকার সরকারী জমিতে ক্রমশই বাড়ছে অবৈধ পাকা দেয়ালের দোকান। এসব দোকান বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। বিআইডব্লিউটিএ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং কল্যান সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের মাধ্যমে এই দখল ও সাবলেট বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বন্দর এলাকায় ঘুরে দেখাগেছে, দীর্ঘ দিন পূর্বে নৌ বন্দরের পুরানো ১তলা লঞ্চঘাটের ফটকের পাশে সরকারী জমিতে দুটি স্টল নির্মান করা হয়েছে। বন্দরের বাউন্ডরি ওয়াল ভেঙ্গে নির্মান করার স্টল দুটি নাসির নামে ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে মাসে মাসে টাকা আদায় করছে। সেখানে বর্তমানে একটি স্টেশনারী এবং একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান রয়েছে। স্টল দুটি ভাড়া দেয়ার পূর্বে অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। তবে এটাকার আংশিক ভাগও জমা হচ্ছে না সরকারের কোন ফান্ডে।
এর আগে নগরীর বান্দ রোডে মেরিন ওয়ার্কশপের সামনে আরো দুটি স্টল রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন’র চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কল্যান সমিতির আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন’র সহযোগিতায় প্রতি মাসে সেখান থেকে ৬ হাজার টাকা করে ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজ। তবে স্টল দুটি বরাদ্দ দেয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জামানতের নামে দুই লক্ষ টাকা করে ঘুষ আদায় করেছেন বলেও জানিয়েছেন দোকানের ভাড়াটিয়া মালিকরা।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র জমিতে আরো ৬টি স্টল নির্মান কাজ চলছে। ইতোমধ্যে স্টলগুলো ভাড়া দেয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি মাসে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া আদায় ছাড়াও ৬টি স্টলের জন্য কোন প্রকার রশিদ ছাড়াই জামানত হিসেবে আদায় করা হয়েছে দুই লক্ষ টাকা করে। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন অবৈধ ভাবে নির্মানাধিন স্টলের ভাড়াটিয়া আজাদ, ফারুক ও শাহজাহান। এ নিয়ে কয়েকদিন পূর্বে দৈনিক আজকের পরিবর্তনে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর পরেও অবৈধ ভাবে স্টল নির্মান কাজ বন্ধ করেননি বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। বরংচ অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমানের নির্দেশেই সরকারী জমিতে অবৈধভাবে পাকা স্টল নির্মান কাজ চলছে। এমনকি ইতোমধ্যে তা শেষ পর্যায়।
বরিশাল নদী বন্দরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বরিশালে আসার পর থেকেই সরকারী ভাবে অবৈধ ভাবে দখল নিয়ে সেখানে স্টল নির্মান করেছে। পরে সেগুলো ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বিআইডব্লিউটিএ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন, কল্যান সমিতির আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন এবং তার সহযোগিদের সহযোগিতায় মোস্তাফিজুর রহমান দখল ও সাবলেট বানিজ্য চালাচ্ছেন। ইউনিয়ন এবং কল্যান পরিষদের নামে সরকারী ভাড়া নিচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে পাকা স্থাপনা এবং স্টল নির্মান করে ভাড়া দিচ্ছে। শুধু সরকারী জমি দখল করে স্টল নির্মানই নয়, বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। যা প্রয়োজনে পাঠকের সামনে নিয়ে আসা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর কর্মকর্তা (যুগ্ম পরিচালক) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মন্ত্রনালয় এবং অধিদপ্তর থেকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র জমি ভাড়া দেয়া হয়েছে। ইউনিয়নের নামে ভাড়া নেয়া এসব জমিতে স্টল নির্মানের সকল অনুমতিও রয়েছে। তবে মন্ত্রনালয় কিংবা অধিদপ্তর থেকে দেয়া অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান।