বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে দুই গ্রুপ ছাত্রলীগ নেত্রীর মাঝে সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সরকারি বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলীতে নারী সন্ত্রাসী হেনার হামলার শিকার হয়েছে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী নেত্রী নাইমা। গতকাল রবিবার রাতে ছাত্রী নিবাসে এ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ নেত্রীর মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে কলেজ শিক্ষক এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এছাড়া দুই উশৃঙ্খল ছাত্রীকে পুলিশ আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রাতে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রী ব্যবস্থাপনা প্রথম বর্ষের ছাত্রী হেনা সমর্থক ঝুমুর আক্তারকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।
ঘটনার শিকার ছাত্রলীগ নেত্রী নাইমা অভিযোগ করেন, বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা প্রথম বর্ষের ছাত্রী ঝুমুর আক্তার হেনার নির্দেশে রুমে গিয়ে তার উপর হামলা চালায়। এঘটনার পরে হেনা এসে মেয়েটিকে তার রুমে নিয়ে আটকে রাখে। বিষয়টি জানতে পেরে অপর গ্রুপের বিএম কলেজের অবৈধ কর্মপরিষদের জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাতের সমর্থক মুনিরা সহ নাইমার সমর্থকরা ঝুমুরের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় তবে খানে ব্যর্থ হয়ে তুষার সমর্থক হেনাকে বেধড়ক মারধর করে।
এদিকে বিষয়টি ছাত্রী হোস্টেলের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে হেনা এবং মুনিরা সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলস্বরুপ দ্বিতীয় দফায় দুই ছাত্রী নেত্রী ও তাদের সমর্থকদের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ ও চুল ধরে টানা টানি হয়। তবে এর মধ্যে মঈন তুষার অনুসারী হেনাকে বেধড়ক মারধর করে সন্ত্রাসী নাহিদ সেরনিয়াবাত অনুসারী মুনীরা এবং নাঈমা সহ তাদের অনুসারীরা।
খবর পেয়ে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য শিক্ষক ও নারী পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই ছাত্রী নেত্রীকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে হলের বেশ কয়েকজন সাধারণ ছাত্রী নিশ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স.ম ইমানুল হাকিম বলেন, ঘটনা তেমন কিছুই হয়নি। পূর্বে যা ঘটে এসেছে তাই হয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষকদের সাথে নিয়ে তাৎক্ষনিক আলোচনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঝুমুর আক্তারকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ একটি তদন্ত কমিটি করে দেয়া হবে। ঐ কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের একাধিক সূত্র জানায়, মঈন তুষার সমর্থক হেনা আক্তার এবং নাহিদ সেরনিয়াবাত সমর্থক নাঈমা ও মুনিরার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আর এ নিয়ে প্রায় সময় উশৃঙ্খল এই দুই ছাত্রলীগ নেত্রীর মাঝে সংঘর্ষ এবং চুল ছেড়া ছিড়ির ঘটনা ঘটে আসছে। তবে দুই পক্ষই ছাত্রলীগ নেত্রী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ ছাত্রীদের।