বনমালী গাঙ্গুলীতে ছাত্রলীগ নেত্রীর ত্রাস ॥ ৭ ছাত্রী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পেয়ারা পাড়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসে ছাত্রলীগের দুই নেত্রী ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। তবে এদের মধ্যে মুনিরা আক্তার মনি গ্রুপের তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দুই দফায় এই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবশ্য দীর্ঘ দিন ধরেই বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রী নিবাসের নিয়ন্ত্রন এবং আধিপত্য নিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রী হেনা আক্তার এবং মুনিরা মনি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্ধ চলে আসছে।
শুক্রবার হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় আহতরা হলো- ছাত্রলীগ নেত্রী মাস্টার্স এর ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী মুনিরা আক্তার মনি, গনিত দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিন আক্তার, একই বিভাগের প্রথম বর্ষের মারিয়া হোসেন, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের কান্তা ইসলাম, গনিত ১ম বর্ষের ইসরাত জাহান, অপর পক্ষের বাংলা দ্বিতীয় বর্ষের ফাতেমা আক্তার ও ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের জান্নাত। এদের মধ্যে মুনিরা আক্তার মনি গ্রুপের ছাত্রলীগ নেত্রী শারমিন আক্তার, মারিয়া হোসেন ও ইসরাত জাহানকে প্রথমে বরিশাল সদর ও পরে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রী নিবাসের দুই নং কাকলী ভবনের পাশে একটি পেয়ারা গাছ রয়েছে। সেখানে একটি আবসিক ভবন নির্মান কাজ চলছে। ভবনটির পাশে থাকা পেয়ারা গাছ থেকে কবরি হলের নিবাসী মুনিরা আক্তার মনি’র অনুসারীরা পেয়ারা পারছিলো। এ নিয়ে অপর অংশের নেত্রী হেনা আক্তার এর অনুসারীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় ছাত্রলীগ নেত্রী হেনা তার অনুসারীদের নিয়ে মুনিরা অনুসারীদের উপর লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা করে। পরে মুনিরার নেতৃতে হামলাকারীদের প্রতিরোধে চেষ্টা করলে তা এক পর্যায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে বিএম কলেজ এবং হল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ছাত্রলীগের নেত্রী মুনিরা মনি মনি অভিযোগ করে বলেন, হেনার ছাত্রত্ব নেই। তার পরে সে অবৈধ ভাবে হলে থেকে ইয়াবা এবং দেহ ব্যবসা করছে। হেনার রুমের বাইরে এবং আশপাশ থেকে ইতিপূর্বে ইয়াবা বিক্রি এবং সেবনের সরঞ্জামাদীও উদ্ধার করেছেন তারা। বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু তার পরেও হেনাকে হল ত্যাগের নির্দেশ কিংবা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। সেই সুযোগে সাধারন ছাত্রীদের উপর হামলা এবং নির্যাতন সহ অনৈতিক কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে হেনা।
এরই অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে নির্মানাধীন ৫তলা ভবনের পাশে থাকা গাছ থেকে পেয়ারা পাড়তে যায় সাধারন ছাত্রীরা। এতে হেনা’র সহযোগিরা বাঁধা দেয়। এক পর্যায় হেনা তার সহযোগী ঝুমুর, ফাতেমা, জান্নাত ও মিষ্টিসহ কয়েকজনকে নিয়ে সাধারন ছাত্রীদের উপর লাঠি নিয়ে হামলা করে। তিনি বাঁধা দিতে গেলে তার (মুনিরা) এর উপরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ মুনিরার। এতে তিনি সহ ৫ জন সাধারন ছাত্রী আহত হন বলেও দাবী তার।
বনমালী গাঙ্গলী ছাত্রী নিবাসের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক এসএম নাসির উদ্দীন বলেন, হোটেল ভবন নির্মানকারী ঠিকাদার জুয়েল মুনিরা এবং কয়েকজন মেয়েকে পেয়ারা নেবার জন্য ডাকে। তাই ছাত্রীরা হোস্টেলের ওই গাছের পেয়ারা আনতে যায়। কিন্তু যে গাছ থেকে পেয়ারা পাড়া হয়েছে সেটি ২নং কাকলী হলের সামনে। তাই ওই হলের ছাত্রীরা তাদের বাঁধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় হেনা এবং মুনিরা অনুসারী ছাত্রীদের মধ্যে হামলা ও সংর্ষের সৃষ্টি হয়। তবে এ সময় হেনা অনুসারীদে হাতে লাঠি-সোটা থাকলেও অপর গ্রুপ খালিহাতে ছিলো। তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে লাঠির আঘাতে আহত তিন জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া পরবর্তীতে বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়া হলে তারা এসে খোঁজ খবর নেন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএম কলেজের উপাধাক্ষ্য স্বপন কুমার পাল বলেন, খবর পেয়ে তিনি সহ অন্যান্য শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে সুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষনে সংঘর্ষ থেমে যায়। পেয়ারা পাড়াকে কেন্দ্র করে মেয়েদের মধ্যে মারামারি হয়েছে বলে সুনেছি। তবে ঘটনাটি তদন্তে কমিটি করা হবে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সত্যরঞ্জন খাসকেল বলেন, খবর পেয়ে আমাদের টহল টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তারা হলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। তাছাড়া এই ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।