বধ্যভূমির সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য বহন করা শতবর্ষী বটবৃক্ষের প্রাণ হুমকির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় সাইলো’র সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বলি হচ্ছে সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য বহণ করা শতবর্ষী বটবৃক্ষ। বধ্যভূমি ও ঐতিহ্যবাহী দিঘির পাড়ের উন্নয়নের শিকার হতে যাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান ক্যাম্পের ওই বটগাছ। ইতিমধ্যেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য বটগাছটির শিকড় কেটে আশ-পাশ দিয়ে করা হয় ৪/৫ ফিট গভীর গর্ত। এতে করে খুব শীঘ্রই মরে যাবে গাছটি বলে মনে করেন এলাকাবাসী। তবে সরাসরি গাছ না কেটে কৌশলে কাজ করা হচ্ছে তাই এমন একটি ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী বৃক্ষ খুব অল্প দিনের মধ্যেই হয়ত আর দেখা যাবে না বলেও জানান তারা। কিন্তু আফসোস করে তারা জানায়, শক্তিশালী পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হচ্ছে তাই হয়ত কোন ভাবেই রক্ষা করা সম্ভব হবে না। কারন এতদিন ধরে মানববন্ধনসহ দিঘি রক্ষার্থে করা কোন কর্মসূচীতেই থেমে নেই শতবর্ষী এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যবহণকারী ত্রিশ গোডাউনের দিঘি ভরাট কাজ। তাই একটি বটগাছ তো অনেক তুচ্ছ বিষয়। এ বিষয়ে ত্রিশ গোডাউন এলাকার একাধিক বাসিন্দারা জানান, নগরীর মধ্যে একটি অন্যতম স্থান ত্রিশ গোডাউন নদীর পার। বিভিন্ন উৎসবে এই স্থানটি ভরে ওঠে বিনোদন পিয়াসুদের পদচারণায়। তবে বেশ কিছু দিন থেকেই স্থানটি ক্রমেই হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। এই স্থানটিতে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভ ও পদক প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এডিসি আজিজুল হকের কবর। বর্তমানে এখানে নির্মাণ করা হচ্ছে ৫০ হাজার মেট্রিকটন চাল ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সাইলো গুদাম। এজন্য ২ একর জমির ত্রিশ গোডাউন দিঘিটি ভরে ফেলার কাজ চলছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে তার বালু দিয়ে ভরাট করা হবে। একেবারে নদী সংলগ্ন একটি ছোট পুকুর ছিল। তা ভরে ফেলা হয়েছে আগেই। স্মৃতিস্তম্ভের সম্মুখ সহ আশপাশের খোলা জায়গাগুলো যে যার মত করে ইট, বালু, খোয়া ইত্যাদি বিক্রি ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করছে। সব মিলিয়ে স্থানটি এখন সৌন্দর্য হারাবার একেবারেই দ্বারপ্রান্তে। ওই এলাকায় দুটি বটগাছ রয়েছে। একটি স্মৃতি স্তম্ভের ঠিক সম্মুখে। অপরটি আর্মড ব্যাটেলিয়ান ক্যান্টিন এর পেছনে। এর প্রত্যেকটিই এই স্থানের সবচেয়ে পুরোনো। এদের বয়স প্রায় শতবর্ষ। এরা বহণ করে আসছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। তবে দীর্ঘদিন ক্লান্তদের নিজের ছায়ায় প্রশান্ত করা এই বৃক্ষ এখন হয়েছে সাইলোর সীমানা প্রাচীরের বলি। দেয়াল নির্মাণের জন্য ক্যান্টিন সংলগ্ন বৃক্ষটির শিকড় কেটে করা হয়েছে পিলার তৈরির গর্ত। যাতে করে গাছটি প্রাণ হারাবে অচিরেই। সব মিলিয়ে ত্রিশ গোডাউন এলাকাটি এখন সৌন্দর্যহীন স্থানে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে দিঘি ভরাট বন্ধে বরিশালের সুধি সমাজ দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচী পালন করে আসলেও কোন ফল হচ্ছে না তার। গতকাল সকালেও একই দাবীতে মানববন্ধন করা হয়েছে টাউন হল সংলগ্ন এলাকায়। এর আগেও হয়েছে তা। দিঘি ভরাট এর কাজ বন্ধের আশ^াস দেয়া হলেও তা ছিল শুধুই আশ^াস। একইভাবে বরংচ কিছুটা দ্রুত গতিতেই এগোচ্ছে কাজ। সুধি সমাজের দাবি এমন একটি ঐতিহ্যমন্ডিত স্থান ও তার সৌন্দর্য রক্ষা করা যাচ্ছে না কোন ভাবেই। তবে থেমে নেই তারা, দবী আদায়ে কাজ করবেন সাধ্য মত। একই সাথে পরিবেশ রক্ষার্থে কাজ করা সংশ্লিষ্ট সংস্থার ও সাধারন বরিশালবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। বলেছেন, প্রথমত- ঐতিহ্যবাহী দিঘি এবং আবার শতবর্ষী বটবৃক্ষ। এমন করেই একে একে হারাবে ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভূমি এলাকায় সকল সৌন্দর্যের নিদর্শনগুলো। তাই এদের রক্ষার্থে সকলকে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।