বটতলায় রহস্যে ঘেরা আগুনে সর্বস্ব পুড়ে ছাই ॥ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ফোরকান আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর বটতলা এলাকায় রহস্যে ঘেরা অগ্নিকান্ডে নৈশ প্রহরীর জীবনের সর্বস্থ অর্জন পুড়ে ছাই হয়েছে। শিশু কন্যা এবং ছেলের ভবিষ্যত গড়ে দিতে ১২ বছর ঘাম ঝড়িয়ে ট্রাংকে জমিয়ে রাখা প্রায় তিন লাখ টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেই সাথে পুড়ে ছাই হয়েছে দুটি বসত ঘরও। গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর বটতলা বাজারের পেছনে এই ঘটনা ঘটে।
তবে এটি কোন অগ্নিকান্ড নয় বলে দাবী ক্ষতিগ্রস্থ নৈশপ্রহরীর। শত্রুতা মেটাতে ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। এমনকি অগ্নিসংযোগকারী ফোরকান নামক ব্যক্তিকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলেও দাবী তাদের। এমনকি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ফোরকান নামক ব্যক্তি এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারনা স্থানীয়দেরও। অবশ্য এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ নৈশ প্রহরী মাসুদকে পরামর্শ দিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। তবে, রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ফোরকানকে আটক করেছে।
নগরীর বটতলা বাজারের নৈশ প্রহরী মাসুদ জানান, গত ১২ বছর যাবত তিনি বটতলা বাজারে নৈশ প্রহরী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাছাড়া বাজারের ভেতরে তাদের একটি চায়ের দোকানও রয়েছে তাদের। যা স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিচালনা করে আসছেন। তাদের সংসারে তাদের ১ ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল রোববার রাতে তিনি এবং তার স্ত্রী বাজারের ভেতরে থাকা চায়ের দোকানে ছিলেন। তাদের ৮ বছর বয়সি শিশু কন্যা মিম দোকানের পাশে খেলা করতে ছিলো। হঠাৎ করেই বাজারের পাবলিক টয়লেট এর পেছনে থাকা তার এবং তার ভাই মানিক এর ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে ছুটে যান। তখন শিশু কন্যা মিম জানায়, ফোরকান নামক ব্যক্তি ঘরে আগুন দিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছে।
মাসুদ জানায়, গত ১২ বছর যাবত তিনি এবং তার স্ত্রী যে অর্থ উপার্জন করেছেন তা কোন ব্যাংকে না রেখে ঘরের ভেতরে একটি ট্রাংকের ভেতরে সঞ্চয় করেছিলেন। সব মিলিয়ে ট্রাংকের ভেতরে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো ছিলো বলে দাবী তাদের। আগুনের কারনে ট্রাংকে থাকা সকল টাকাই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পূর্ব শত্রুতা মেটাতেই বটতলা বাজারের এক সময়ের কাঁচামাল বিক্রেতা ফোরকান তাদের ঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর কারন হিসেবে তিনি বলেন, ফোরকান নগরীর রাজু মিয়ার পুল এলাকায় খলিলুর রহমান এর বাড়ির ভাড়াটিয়া। তাছাড়া তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়ায়। সে বটতলা বাজারে কাচা মালের ব্যবসা করা কালে তার (মাসুদ) কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছে। এছাড়া দোকান থেকে অনেক টাকাও বাকি খেয়েছে। এ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ এবং হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এর পর পরই ফোরকান বাজারে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। টাকা না দেয়া এবং বিরোধের জের ধরেই সে অগ্নিকান্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ মাসুদের।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, ফোরকানের মেয়ে বৃষ্টির সাথে মাসুদের ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সেই সম্পর্কের জের ধরেই ফোরকানের মেয়ে বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছিলো। সেই থেকেই তাদের মাঝে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বাজারের মধ্যে তাদের দু’জনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন স্থানীয়রা তাদের মিমাংসা করে দেয়। কিন্তু তাদের মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটেনি। মেয়ে হারানোর ক্ষোভ থেকেই ফোরকান অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাতে পারে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ প্রসঙ্গে কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ট অফিসার (উপ-পরিদর্শক) আবু তাহের বলেন, অগ্নিকান্ডে দুটি ঘর পুড়ে গেছে। ঘর দুটিতে নতুন বাজারের নৈশ প্রহরী মাসুদ এবং তার ভাই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলো। তবে ঘরের মধ্যে তেমন কোন মালামাল না থাকলেও মাসুদের ঘরে ট্রাংকের মধ্যে জমানো অনেক টাকা ছিলো। তিনি বলেন, মাসুদ তার ঘরে ফোরকান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করেছেন। তাই এ বিষয়ে ফোরকানকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবতী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের তার পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির জাহিদ এবং স্থানীয় জনগণ তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নি নির্বাপন কাজে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতা করেন।