বজ্রপাতে নগরীতেই দশটি ট্রান্সফর্মার বিনষ্ট দক্ষিণাঞ্চলে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বৃহস্পতিবার ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পরে গতকাল বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও আগের দিনের বর্ষার সাথে বজ্রপাতে বিদ্যুৎ স্থাপনার যথেষ্ঠ ক্ষয়ক্ষতির রেশ গতকালও অব্যাহত ছিল। গতকাল তাপমাত্রাও যথেষ্ঠ সহনীয় ছিল দক্ষিণাঞ্চলে। বৃষ্টিপাতের পরিমান কিছুটা হ্রাস পেলেও আবহাওয়া বিভাগের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দেশের মধ্যভাগে পৌছবে। বৃহস্পতিবারের প্রায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সাথে লাগাতার বজ্রপাতে খোদ বরিশাল মহানগরীতেই অন্তত দশটি ১১/.০৪ কেভি ট্রান্সফর্মার বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ ট্রান্সফর্মারগুলো সরিয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পূণর্বহালে অনেক এলাকাতেই গতকাল বিকেল গড়িয়ে যায়। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বৃহস্পতিবার বরিশাল বিমান বন্দরে বাতিলকৃত ইউএস-বাংলা ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর দুটি ফ্লাইট গতকাল সকালে যাত্রী পরিবহন করে।
জুনের প্রথম দিনেই বরিশাল অঞ্চলে ৮৮ ও পটুয়াখালীতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও মে মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৫.৯% কম বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল অঞ্চলে। মে মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬.১% কম। তবে চলতি মাসে সারা দেশের মত বরিশাল অঞ্চলেও স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এ মাসে বরিশাল অঞ্চলে স্বাভাবিক ৪৮৩ মিলিমিটারের স্থলে ৪৩৫ থেকে ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ তার দীর্ঘমেয়াদী বুলেটিনে। চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ১-২টি মৌসুমী নিম্নচাপের সম্ভাবনার পাশাপাশি সারা দেশেই বর্ষা মাথায় করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বিস্তার লাভের কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
তবে গতকাল আবহাওয়া বিভাগের দৈনিক বুলেটিনে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ইতোমধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলভাগ হয়ে সিলেট অঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হবার খবর জানিয়ে তা আজ সকালের পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তার লাভের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তি এলাকায় অবস্থান নেয়ার কথা জানান হয়েছে। বরিশাল ও খুলনা বিভাগ সহ উপকূলীয় এলাকায় বজ্র সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভবনার কথা জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে দু দফা বর্ষনের পরে সন্ধা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রবল বর্ষনের সাথে বিকট শব্দের বজ্রপাতে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে জনজীবন সম্পূর্ণভাবেই বিপর্যস্ত হয়ে পরে। মাত্র সোয়া ঘন্টায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় বরিশাল মহানগরীতে। ফলে নগরীর বেশীরভাগ রাস্তাঘাটই বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও লন্ডভন্ড হয়ে যায় গোটা মহানগরী সহ দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্রই। গতকাল সকাল থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটলেও আগের রাতের বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পূনর্বাসনে সকাল থেকে দুপুর পেরিয়ে অনেক এলাকাতেই বিকেলও গড়ায়। তবে গতকাল সড়ক, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।