বঙ্গোপসাগরে দস্যুদের গুলিতে জেলে নিহত ॥ গুলিবিদ্ধ-২০ ও শতাধিক অপহৃত

নিজস্ব ও কুয়াকাটা প্রতিবেদক॥  দক্ষিন-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে সশস্ত্র জলদস্যূ বাহিনীর গুলিতে বিদ্ধ হয়ে এক জেলে নিহত হয়েছে। এছাড়াও  ২০ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে এই ঘটনার পর মুক্তিপনের দাবিতে শতাধিক জেলে অপহরণ করা হয়েছে।
নিহত মইজুল মাঝি (৪০) চট্টগ্রামের এফবি বসুন্ধরা-৪ ট্রলারের জেলে ছিল। মইজুলের বাড়ী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বালুর চর গ্রামে।
গুলিবিদ্ধ গুরুতর ৪ জেলে গজনবী (৫০), শাহ-আলম (৪০), মাসুদ (৩০) ও সিরাজ (৩৫) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আলীপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার আলী মোল্লা জানান, কুয়াকাটা থেকে ৫/৭ কিলোমিটার দক্ষিন পশ্চিমে আন্দারমানিকের মোহনায় সকাল ১০টার দিকে মাছ ধরা অর্ধশত ট্রলারে দফায় দফায় হামলা ও লুটপাট শুরু করে সুন্দরবনের জলদস্যুরা। ওই সময় প্রতিরোধের চেষ্টা করলে জলদস্যুদের বেপরোয়া গুলিতে অন্তত ২০ জেলে বিদ্ধ হয়েছে। এদের মধ্যে মইজুল নিহত হয়েছেন। আহত জেলেদের নিয়ে এফবি বসুন্ধরা-৪ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আলীপুরে ফিরে এসেছে।  ওই সকল ট্রলার থেকে অন্তত একজন করে শতাধিক জেলেকে অপহরণ করেছে বলে এফবি বসুন্ধরা-৪ ট্রলারের জেলেরা জানিয়েছে বলে জানান আনসার আলী মোল্লা।
তিনি দাবি করেন, সুন্দর বনের জলদস্যু রাজু বাহিনী এর আগে শতাধিক জেলেকে অপহরনের পর মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়াও সেখানে নয়ন ও নাসির নামের আরো দুই জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে এসব বাহিনী ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত।
আনসার আলী মোল্লা অভিযোগ করেন, দিন-দুপুরে সমুদ্রে ডাকাতি হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন সহযোগিতা করছে না। সুন্দরবন এলাকার নদীর মোহনাগুলোতে র‌্যাব ও কোষ্ট গার্ড রাতে টহল অব্যাহত রাখলে অপহরনকারী এবং অপহরন করা জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার উপকূলীয় জেলে পল্লীতে আতংক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মহিপুরের আড়ত তালুকদার ফিসের ব্যবস্থাপক মো. আলম জানান, ফিরে আসা গুলিবিদ্ধ জেলেদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গুরুতর ৪ জেলেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আবুল কাশেম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।