বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য ৪ হাজার ৪৮৪ দিন অন্ধকারে কাটিয়েছেন-তারানা হালিম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তারানা হালিম এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছেলেবেলা থেকেই বাংলাদেশ ও আপামর জনতার কথা চিন্তা করতেন। বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য তিনি ৪ হাজার ৪শ’ ৮৪দিন অন্ধকার কারাগারে জীবন কাটিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশকে স্বাধীনতার ১১ মাসের মাথায় বাংলাদেশকে দিয়েছিলেন একটি নিজস্ব সংবিধান। তবুও বর্বরতার এক বিভীষিকাময় ১৫ আগষ্ট’র রাতে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছে এই কালজয়ী নেতাকে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নগরীতে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত তিনদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দেশবাসী হারিয়েছিলেন একজন স্বজন। সময় এসেছে আমরা যেন রক্ত দিয়ে বঙ্গবন্ধু রক্তের ঋন শোধ করে যেতে পারি।
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সেদিন বিচারের সব পথ রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুনর্বাসন করেছেন, বিদেশে পাঠিয়ে তাদের চাকুরীর ব্যবস্থা করেছেন, এমনকি বাংলাদেশের সংসদের আসনেও বসিয়েছেন। তাই বঙ্গবন্ধুর পরিবার বর্বরতার বিচার ২১ বছরেও পায়নি। বিএনপি’র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া মানবাধিকার নিয়ে কথা বলছেন। যখন বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল এ মানবাধিকার? বেগম জিয়া এখন কর্মী খুঁজে পাচ্ছেন না। কিন্তু ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে তার কর্মীরা মানব দেয়াল তৈরি করে রক্ষা করেছিলেন। ভবিষ্যতেও এমনভাবেই প্রাণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে যাবে তার নেতাকর্মীরা। ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবেনা।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতি জোটের মহানগর সভাপতি সৈয়দ দুলালের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৫ আগষ্টের সেই ভয়াবহ রাতের ঘটনা নিয়ে স্মৃতিচারন করেন শহীদ সুকান্ত বাবু আবদুল্লাহ’র গর্ভধারিনী মা সাহান আরা বেগম ।
সাহান আরা বেগম সেদিনের স্মৃতিচারনা করতে গিয়ে দুই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। ধরে রাখতে পারেনি কন্ঠের স্বর। তা স্মৃতিচারনায় বেশী কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারেনি তিনি। বঙ্গবন্ধুর জীবন গল্পের উপর আলোচনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সিনিয়র সাংবাদিক এ্যাড, মানবেন্দ্র বটব্যাল। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন টিভি ও মঞ্চ ব্যক্তিত্ব তমালিকা কর্মকার ও চলচ্চিত্র নায়িকা রোজিনা।
এরপূর্বে মঞ্চে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃর্তিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন ডাক ও টেলি-যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম,সাহান আরা বেগম, রোজিনা, তমালিকা কর্মকার ও মুনিরা বেগম মেমি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্নেহাংশু বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের ২য় পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নাটক নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও গীতি আলেখ্য পরিবেশন করেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।