বখাটেদের হামলায় আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আমিনুল ইসলাম রমজান (২০) চরবাড়িয়া ইউপির উলাল বাটনা গ্রামের আব্দুর রশীদ হাওলাদারের ছেলে। নগরীর শহিদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ্র কলেজের ছাত্র এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমজানের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে লাকুটিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনায় জড়িত স্কুল ছাত্রকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটক হওয়া রন্টি চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
শনিবার সন্ধ্যায় লাকুটিয়া বাজারের পশ্চিম পাশ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় রমজানকে উদ্ধার করা হয়। পরে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তির পর ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মারা যায় সে।
রমজানের বন্ধু জানায়, শনিবার বিকেলে রমজানকে হামলাকারীরা ফোন করে। পরে সে লাকুটিয়া বাজারে যায়। সন্ধ্যায় তাকে বাজারের পশ্চিম পাশে রাস্তার পাশে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলাকারীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে রমজানের চার হাত পা ভেঙ্গেছে। এছাড়াও মাথায় পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার জানিয়েছে, রমজানের সাথে কয়েকদিন পূর্বে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে ওই রাকুদিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলামের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই বিরোধের জের ধরে শনিবার বিকেলে জহিরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই ইমরান, প্রতিবেশি আরিফ হোসেন, ছালাম ও বাপ্পিসহ ৮/১০ জন যুবক রমজানকে খবর দিয়ে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। পরে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখেছে।
রমজানের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারী জহিরুল ইসলাম’র মুদি দোকানসহ আশে পাশের কয়েকটি দোকান এবং ৪/৫টি বাড়ি ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে একটি ঘরে আগুন দেয়। পরে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ ঘটনাস্থানে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এদিকে এই ঘটনার পর রমজানকে ফোন করা রন্টিকে খবর দিয়ে এনে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা।
বিমান বন্দর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে আসলে পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে পুলিশ রাখা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রের বাবা রশিদ হাওলাদার বাদী হয়ে ৮ জন নামধারী ও ১২ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মামলা করেছে বলে ওসি স্বীকার করেছেন।
অপরদিকে রমজানের মরদেহ বিকেলে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌছালে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুসহ প্রতিবেশিরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বাদ এশা বাড়ির পাশে জানাযার পর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে রমজান হত্যার প্রতিবাদে আজ সকাল ৯ টায় চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হবে।