বকেয়া বেতন-ভাতা ও বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে নগর ভবনে কর্মচারীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি এবং বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা। গতকাল নগর ভবনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে ওই বিক্ষোভ করেছে কর্মচারীরা। পরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নগর ভবন ছেড়ে যায়নি বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।
বিসিসির কর্মচারী আব্দুল লতিফ জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউই নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। মাসের পর মাস তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে।
আরেক কর্মচারী বলেন, নিয়মিত সকল কর্মচারীর গত নভেম্বর থেকে বেতন বকেয়া রয়েছে। সোমবার হিসাব শাখা থেকে একমাসের বেতন ও বোনাসের চেক দেয়া হয়। কর্মচারীরা সকালে টাকা উত্তোলনের জন্য নগরীতে জনতা ব্যাংকের প্রধান শাখায় যান। কিন্তু নগর ভবন থেকে চেক ইস্যু না করার জন্য বলা হয়েছে বলে ব্যাংক থেকে জানানো হয়। ফলে কর্মচারীরা টাকা না পেয়ে ফিরে এসে বিক্ষোভ করেছে।
কর্মচারী নগর ভবনের দোতালায় খোলা স্থানে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় মেয়র আহসান হাবিব না আসায় তার কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। অন্যান্য কর্মকর্তারা নিজ নিজ কক্ষের দরজা আটকে ভেতরে অবস্থান করে। কেউ কেউ নগর ভবন থেকে বেরিয়ে যায়। বিক্ষুদ্ধ একদল কর্মচারীরা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। ১০/১২ জন কাউন্সিলর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘিরে কর্মচারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে।
নির্বাহী কর্মকর্তার সামনে অবস্থানরত ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন সিকদার বলেন, কর্মচারীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
বিসিসির যানবাহন শাখার সহকারি সোহাগী বেগম জানান, তাদের ৫৮ জনকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয় সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন শাখায়। তারা নিয়মিত কাজ করে গেলেও ৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. জব্বার জানান, তিনি ১২ বছর যাবত সিটি কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন। তার বেতন এখন মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা। তবে বর্তমান মেয়র যাদের নিয়োগ দিচ্ছেন তাদের বেতন দেয়া হয় ৯ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার জানান, সিটি কর্পোরেশনে সব মিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। পূর্বে ছিল মাত্র ৮০০ জন। তাই খরচও বেড়েছে।
কিন্তু সে অনুযায়ী রাজস্ব আসছে না। নগরীর অধিকাংশ বাসিন্দা হোল্ডিং ট্যাক্স দিচ্ছে না। অথচ রাজস্ব থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। প্রতিমাসে বেতন বাবদ খরচ আছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেই অনুযায়ী রাজস্ব জমা হচ্ছে না তহবিলে। তাই ২/১ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
তবে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের দাবি কোন কর্মচারীর বেতন বকেয়া নেই। গত মাসের বেতনের সাথে সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।