বকেয়া বেতন নিয়ে বিসিসিতে তুলকালাম ॥ কাউন্সিলর-কর্মচারী হাতাহাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে বিসিসি’র নগর ভবনে ঘটে গেছে তুলকালাম কান্ড। কতিপয় কাউন্সিলর নগ্ন হস্তক্ষেপ করলে এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এসময় দুই কাউন্সিলর এবং তাদের লোকদের (বহিরাগত ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী) হামলায় বিসিসি’র এক কর্মকর্তা আহতও হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নগর ভবনে এই ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে, ঈদের আগে বকেয়া বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিসিসি’র কর্মচারীরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা নগর ভবনের প্রধান গেট বন্ধ করে শ্লোগান দেয়। বেলা ১২টার দিকে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল এবং কাউন্সিলররা জেল খাল পরিদর্শন শেষে নগর ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় নগর ভবনের প্রধান ফটক আটকে বিক্ষোভকারী কর্মচারীরা মেয়রকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়। এ নিয়ে নগর ভবনের সামনে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বিক্ষুব্ধ কর্মচারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহুর্তে বিসিসি’র ২নং প্যানেল মেয়র মোশারেফ আলী খান বাদশা, কাউন্সিলর সৈয়দ জাকির হোসেন জেলাল, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু এবং বহিরাগত বিএনপি নেতা মাসুদ আন্দোলনকারী কর্মচারীদের হামলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। এক পর্যায় কাউন্সিলর এবং তাদের সহযোগীদের সঙ্গে আন্দোলনরত কর্মচারীদের হাতাহাতি হয়। এসময় উপস্থিত অন্যান্য কাউন্সিলররা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এদিকে মেয়র আহসান হাবিব কামাল তার কার্যালয়ে গেলে কর্মচারীরা তার পেছনে শ্লোগান দেয়। এর কিছুক্ষন পরে প্যানেল মেয়র বাদশা পুনরায় কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরন এবং মারধরের চেষ্টা করে। সেই মুহুর্তে বহিরাগত যুবদল নেতা মাসুদ সহ তাদের সহযোগিরা কর্মচারীদের উপর হামলা এবং মারধর করে। তাদের প্রতিহত করতে চাইলে বিসিসি’র বস্তি ও উদ্বাস্তু উন্নয়ন কর্মকর্তা রাসেল খানকে বেধড়ক মারধর করে। পরে অন্যান্য কাউন্সিলররা পরিস্থিতি শান্ত করে।
অপরদিকে এই ঘটনার পরে বিসিসিতে এক জরুরী সভা ডাকা হয়। সেখানে সভায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য তাদের প্রতিনিধি ডাকা হয়। কিন্তু কর্মচারীরা সভা বর্জন করে সমঝোতায় রাজি হয়নি।
আন্দোলনকারী কর্মচারীরা জানান, আমরা গত মে থেকে চার মাসের বেতন পাব। কিন্তু আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। কিন্তু ডেইলি লেবার এবং কাউন্সিলরদের দুই মাসের ভাতা এক সঙ্গে পরিশোধ করা হয়েছে। বেতন ভাতা না পেয়ে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই আগামী ৩১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করা হলে লাগাতার আন্দোলনে যাবার হুমকিও দেন কর্মচারীরা।
এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, নানান প্রতিকুলতা সত্ত্বেও বিসিসিতে যখন যেভাবে আয় হয়েছে তখন সেভাবে পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে। গত রমজানের ঈদের পূর্বে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস পরিশোধ ও অনিয়মিতদের বেতন পরিশোধ করা হয়। ঈদ পরবর্তী টাকা আদায় হওয়ায় নিয়মিতদের একত্রে দু’মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। কোরবানীতে অনিয়মিত শ্রমিকরা যাদের বোনাস দেয়া হয় না তাদের বেতন বৃদ্ধির সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এরপর যে টাকা ছিলো তা দিয়ে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বোনাস দেয়া হয়েছে। এরপরও যারা আন্দোলন-সংগ্রামের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।