ফ্যাসিলিটিজে ফিল্মিষ্টাইলে টেন্ডারবাজী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবারো হানা দিয়েছে ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজরা। এবারও তারা সাধারন ঠিকাদারদের বাঞ্ছিত করে গুছিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৫৮ লক্ষ টাকার স্কুল নির্মান কাজ। গতকাল বুধবার ছাত্রলীগ ফিল্মি স্টাইলে প্রকাশ্য টেন্ডারবাজী করলেও ভয়ে এর কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি সাধারন ঠিকাদাররা।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, গত ১৩ এপ্রিল বরিশাল জেলার মুলাদী এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বরিশাল সদর উপজেলার নওগাঁ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকেরগঞ্জের কাটাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মানে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল বুধবার ছিলো দরপত্র দাখিলের শেষ দিন।
এদিকে দরপত্র আহবানের পরে সাধারন ঠিকাদাররা চারটি গ্রুপের কাজের দরপত্রে অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে দরপত্র ক্রয় করলেও শেষ পর্যন্ত সব কটি গ্রুপের কাজে অংশ নিতে পারেনি তারা। এর কারন হিসেবে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ গ্রুপ পর্যন্ত তারা দরপত্র দাখিল করতে পারলেও প্রথম গ্রুপ মুলাদী উপজেলার এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মানের ৫৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কাজের দরপত্র জমা দিতে দেয়নি বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সকাল থেকেই জেলা ছাত্রলীগে সাধারন সম্পাদক রাজ্জাক সমর্থক টেন্ডারবাজ বাহিনী শিক্ষা প্রকৌশল এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে টেন্ডার বক্সের কাছে অবস্থান নেয়। যেই গেছেন দরপত্র জমা দিতে তার কাছ থেকেই ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে দরপত্র।
ঠিকাদাররা আরো অভিযোগ করেন, শুধু প্রথম গ্রুপ নয়, চার গ্রুপের কাজই গুছ করতে চেয়েছিলো জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের টেন্ডারবাজ বাহিনী। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের সতর্ক অবস্থানের কারনে তা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত এক এবং দুই নয় গ্রুপের কাজ দুটি গুছের চেস্টা চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক গ্রুপের কাজটি গুছ করে নিতে সক্ষম হয় তারা। এজন্য সাধারন ঠিকাদারদের দেয়া হয়নি দরপত্রের ক্রয়ের টাকাও।
এদিকে দ্বিতীয় গ্রুপের কাজটি বাগিয়ে নিতে ব্যর্থ হলেও সেখানেও সব ঠিকাদাররা অংশ গ্রহন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের টেন্ডার সন্ত্রাসীদের বাধায় দ্বিতীয় গ্রুপের কাজের বিপরীতে মাত্র ৬টি দরপত্র জমা দিতে সক্ষম হয়েছে সাধারন ঠিকাদাররা। এছাড়া এক নম্বর গ্রুপে ৩টি দরপত্র জমা পড়েছে। যার প্রতিটিই জেলা ছাত্রলীগের। তবে বাকি ৩ য় গ্রুপে ১৮টি এবং ৪র্থ গ্রুপে ১৫টি দরপত্র জমা পড়েছে।
জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আবাল বাশার জানান, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবেই গতকাল দরপত্র গ্রহন করা হয়েছে। এ নিয়ে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা হয়নি বলে জানান তিনি।
এমনকি জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি বরিশালের বাইরে রয়েছে। বরিশালে টেন্ডারবাজী হয়েছে কিনা জানা নেই। তাছাড়া জেলা ছাত্রলীগ বা আমার সমর্থক কোন নেতা-কর্মী দরপত্র গুছের সাথে জড়িত নেই বলে দাবী করেন রাজ্জাক।