ফোন কোম্পানীর কাছে বিসিসির প্রায় সোয়া ৫ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ে কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে বেসরকারী মোবাইল ফোন কোম্পানীর টাওয়ারের বকেয়া কর আদায়ে কমিটি গঠন করেছেন মেয়র আহসান হাবীব কামাল। গঠিত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে বিসিসির নির্বাহী কর্মকর্তাকে। এছাড়া কমিটির ১০ সদস্যর মধ্যে প্যানেল মেয়রদের রাখা হয়েছে। এই কমিটি নগরীর ঝুঁকিপূর্ন ভবনে থাকা টাওয়ার অপসারন করবে। বকেয়া আদায়ে গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবনে মেয়র আহসান হাবিব কামাল এর সভাপতিত্বে সভায় কমিটি গঠন করা হয়। সভায় কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, প্রকৌশলী ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে মোবাইল টাওয়ার, বিল বোর্ড, মৎস্য বিক্রেতা, শুটকি বিক্রেতা, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ, বলপেন তৈরী, কাজী অফিস, চুনাপাথর বিক্রেতা, পুরাতন কাপড় বিক্রেতা, ব্লাড ব্যাংক সহ শতাধিত প্রতিষ্ঠানকে সিটি করের আওতায় নেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করার জন্য কর আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নগরীতে চলাচলরত যানবাহনের উপর বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীরাও করের আওতায় থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি গত ১৫ মার্চ গেজেট আকারে পাশ করা হয়েছে। সভায় জানানো হয় নগরীর মধ্যে ফোন কোম্পানীর টাওয়ারের কাছে নগর কর্তৃপক্ষের ৫ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বকেয়া কর রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বাভাবিক বহুতল ভবনসহ জমির উপর গ্রামীন ফোন, বাংলালিংক, টেলিটক, সিটিসেল, এয়ারটেল ও রবি কোম্পানীর ১৩৭টি মোবাইল টাওয়ার রয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে গ্রামীন ফোনের কাছে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ, বাংলালিংকের কাছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৫০ হাজার, এয়ারটেলের কাছে ৫১ লক্ষ ২৫ হাজার , টেলিটকের কাছে ৬৫ লক্ষ ৭৫ হাজার, সিটিসেলের কাছে ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার ও রবি’র কাছে ৭৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে।
আলোচনা সভায় মেয়র কামাল জানান, এসব বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য বেশ কয়েকবার মোবাইল কোম্পানী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা সহ লিখিতভাবে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তারা বিভিন্ন সময়ে ছলছাতুরী করে এড়িয়ে যাচ্ছে। তাই সদ্য সরকার কর্র্তৃক ঘোষণা অনুযায়ী যেসব ভবনে টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে সেই সব ভবনের মালিকদের সাথে আলোচনা শেষে পরবর্তীতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ওই বকেয়া আদায়ে মেয়র কোন প্রকার ছাড় না দেয়ার জন্য কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কর্পোরেশনের বকেয়া রাজস্ব আয়ের টাকা আদায় করার জন্য যে কোন কঠোর পদক্ষেপ নিতে মেয়র সহ কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কোন পিছ পা হবে না বলে হুশিয়ারী উচ্চারন করেছে বিসিসি মেয়র আহসান হাবিব কামাল।
সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার দাস, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইমতিয়াজ মাহমুদ জুয়েল, প্যানেল মেয়র কে. এম শহিদুল্লাহ, প্যানেল মেয়র-২ মোশারেফ আলী খান বাদশা, প্যানেল মেয়র শরীফ তাসলিমা কালাম পলি, কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, আক্তারুজ্জামান গাজী (হিরু), সেলিম হাওলাদার, মীর জাহিদুল কবির, হাবিবুর রহমান টিপু, ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, মাইনুল হক, ইউনুস মিয়া, মেহেদি পারভেজ আবির, খায়রুল মামুন, হুমায়ুন কবির, বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর-সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।