ফের প্রকাশ্যে তিন চাকার নিষিদ্ধ ব্যাটারীর রিক্সা

রুবেল খান ॥ নগরীতে আবারো প্রকাশ্যে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে তিন চাকার অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা। ইতিপূর্বে রাতের আধারে এবং অলিতে-গলিতে এসব রিক্সা চলাচল করলেও এখন নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোডে যাত্রী পরিবহন করছে। ট্রাফিক কর্মকর্তাদের নাকের ডগা দিয়ে অবৈধ এই রিক্সা চলাচল করলেও আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা। তবে অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে মাসোহারা দিয়ে নগরী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকার ব্যাটারী চালিত অবৈধ রিক্সা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চার থেকে পাঁচ বছর পূর্বে নগরীতে একটি-দুটি করে চলাচল শুরু করে তিন চাকার ব্যাটারী চালিত রিক্সা। রিক্সায় মর্টার লাগিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রী পরিবহন করা হয় রিক্সাগুলোতে। প্রথম দিকে গুটি কয়েক রিক্সা হওয়ায় এগুলো তেমন চোখে পড়েনি। তবে একটি পর্যায়ে অবৈধ এই ব্যাটারীর রিক্সায় ছেয়ে যায় গোটা নগরী। নগরীর সদর রোড সহ আশা পাশের এলাকায় চার থেকে পাঁচ হাজারের মত রিক্সা চলাচল করে। এতে করে নগর জুড়ে বেড়ে যায় লোডশেডিং এবং দুর্ঘটনা। তাছাড়া চালকরা রিক্সার উপরে পা তুলে রিক্সা চালনা করা হয়। এসব কারনে অবৈধ এই রিক্সাগুলো গলার কাটা হয়ে দাড়ায় নগরবাসীর। দাবী তোলা হয় এই অবৈধ রিক্সা বন্ধের। তার মধ্যেই গেলো সিটি নির্বাচনের সময় ভোটের স্বার্থে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর মৌখিক সিদ্ধান্তে সাময়িক সময়ের জন্য চলাচলের অনুমতি পেয়েছিলো অবৈধ রিক্সাগুলো। অবশ্য নির্বাচন পরবর্তী সিটি কর্পোরেশন এবং নগর ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নগরী সহ আশ পাশের এলাকায় অবৈধ এই রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। দীর্ঘ সময় ট্রাফিক পুলিশের কড়া নজরদারীর কারনে নগরীতে অবৈধ তিন চাকার এই রিক্সা চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় বললেই চলে। মাঝে মধ্যে রাতের আধারে ব্যাটারী চালিত কিছু রিক্সার দেখা মিললেও দিনের বেলায় এর হদিস ছিলো না। কিন্তু হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ সেই অবৈধ ব্যাটারীর রিক্সা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ২০/২৫টি নয়, গোটা নগর জুড়ে চলাচল করছে দেড় থেকে দুই সহ¯্রাধীক অবৈধ ব্যাটারীর রিক্সা। দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিক্সাগুলো। কিন্তু ট্রাফিক সার্জেন্ট সহ কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করে আছে বলে অভিযোগ সাধারন মানুষের।
হঠাৎ করে নগরীতে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলাচলের বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন চালকের সাথে। তারা জানিয়েছেন অবৈধ ব্যাটারীর রিক্সা বৈধ ভাবে চলাচলের গোপন তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিক্সার চালকরা জানান, ট্রাফিক পুলিশের সাথে সমঝোতা করেই তারা নগরীতে ব্যাটারীর রিক্সা চালাতে পারছেন। একজন টিআই সহ কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে এজন্য প্রতি মাসে ৩শ টাকা করে দিয়ে বিশেষ টোকেন গ্রহন করছেন। এর ফলে রিক্সা চলাচলে বাঁধা আসছে না। তবে যারা টোকেন ছাড়া ব্যাটারীর রিক্সা চালানোর চেষ্টা করছে সেইসব রিক্সার বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে ট্রাফিক সার্জেন্টরা।
তবে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ থেকে দাবী করা হয়েছে ভিন্নটা। মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) উত্তম কুমার পাল বলেন, তিন চাকার অবৈধ রিক্সা সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ। এগুলোকে বৈধতা দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যে কারনে রিক্সা গুলো পেলেই মামলা সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছেন সার্জেন্টরা। তাদেরকে সেভবেই নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। তার পরেও কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।