ফের গণছুটির ফাঁদে শেবাচিম হাসপাতাল ॥ চলছে ছাড়পত্র দেয়ার মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আবার ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে বৃহত্তর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফলে ঈদ উল ফিতরের ন্যায় কোরবানীর ঈদেও চিকিৎসক-নার্স সংকটে পড়তে যাচ্ছে এই হাসপাতালটি। টানা ৬ দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে একমাত্র ভরসা হিসেবে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিবে হাতে গোনা হিন্দু, বৈদ্য ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বি চিকিৎসক ও নার্সরা। আর সে অনুযায়ী গত মঙ্গল এবং বুধবার সম্পন্ন করা হয়েছে ঈদের ছুটিতে চিকিৎসক ও নার্সদের ডিউটি রোটেশন।
এদিকে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে বরাবরের ন্যায় ফের শুরু হয়েছে রোগীদের ছাড়পত্র দেয়ার মহোৎসব। বাতিল করা হচ্ছে অস্ত্রপচারের রুটিন। এমনকি সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই অনেক মুমূর্ষ রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে নিজ নিজ বাড়িতে। বছরের পর বছর চলে আসা চিকিৎসকদের এমন অনিয়ম এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। যে কারনে বাধ্য হয়ে তাদের এ অনিয়ম মেনে নিতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।
জানাগেছে, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদ উল আজহা। ঈদ উৎসব উপলক্ষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে শুরু হয়েছে গন ছুটির নেয়ার প্রতিযোগিতা। চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে ছুটিতে যেতে শুরু করেছে। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্স সংকট চরম আকার ধারন করবে বলে আশংকা সংশ্লিষ্টদের।
এদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস.এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি ভাবে টানা ৬ দিন ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা খাতে টানা ৬দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ নেই। বেশি হলে ৩দিন ছুটি কাটানোর সম্ভব। তাও গনহারে নয়।
তিনি বলেন, শেবাচিম হাসপাতালে যে পরিমান হিন্দু, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন তার থেকে দ্বিগুন বেশি মুসলমানের সংখ্যা। যে কারনে ঈদ কোরবানীতে একটু সমস্যা হবে এটা স্বাভাবিক। তবে তা তুলনামূলক বেশি নয়।
তিনি আরো জানান, গত মঙ্গলবার ঈদ কালিন চিকিৎসকদের ডিউটি রোষ্টার সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার নার্সদের রোষ্টারও হয়েছে। ঈদের দিন মুসলমান ধর্মের চিকিৎসক-নার্স ফুল টাইম ছুটি কাটাবে। তবে বিকালের দিকে নগরীতে যেসব চিকিৎসকরা থাকেন তারা হাসপাতালে এসে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিবেন। এছাড়া বহি:র্বিভাগ খোলা হবে ঈদের দুদিন পরেই। যে কারনে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হবার সুযোগ নেই।
এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল বুধবার হাসপাতালে বিভাগীয় প্রধান সহ রেজিষ্ট্রার, সহকারী রেজিষ্ট্রার এবং মেডিকেল অফিসাররা সকলেই দায়িত্ব পালন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার অফিস শেষে বেশিরভাগ চিকিৎসকরা ও নার্সরা কর্মস্থল ত্যাগ করবেন। অবশ্য যাদের বাড়ি দুরে তাদের মধ্যে অনেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বুধবার রাতেই বরিশাল ত্যাগ করেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তাছাড়া গতকাল বুধবার হাসপাতাল থেকে যে পরিমান রোগির নাম কাটা হয়েছে তা গত দুই মাসের তুলনায় রেকর্ড সংখ্যক। প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে এক থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন করে রোগীর নাম কাটা হয়েছে। বাকি রোগীদের আজ বৃহস্পতিবার নাম কেটে হাসপাতাল থেকে বিদায় দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে চিকিৎসকদের।
তবে চিকিৎসকদের দাবী তারা কোন মুমূর্ষ রোগীর নাম কাটছেন না। যারা সুস্থ শুধুমাত্র তাদেরই নাম কাটা হচ্ছে। তাছাড়া যেসব রোগী নিজে থেকে নাম কেটে যাওয়ার কথা বলছে তাদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যে কেউ অপারেশনের রোগী থাকলে তাদের ঈদের পরে খোলা তারিখে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।