ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে শেবাচিম হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঈদ-উল-ফিতরকে ঘিরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল। ইতিমধ্যেই মেডিসিন এবং সার্জারী ভিত্তিক ওয়ার্ড গুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। রোগী বিহিন খালি পড়ে আছে শয্যাগুলো। অথচ দু’দিন আগেও হাসপাতালের ওয়ার্ড তো দুরের কথা বরান্দায়ও রোগীর ভিরে তীল ধরানোর ঠাই ছিলোনা। হাসপাতালে হঠাৎ করেই রোগীর হ্রাস পাবার পেছনের কারন একটিই তাহলো ঈদ ইনন্দ। চিকিৎসক থাকবেন না, নার্সও থাকবেন সিমিত। পাওয়া যাবে না সঠিক সেবা এমন আশংকায় অনেক রোগী স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছেন। তবে এর থেকে বেশি রয়েছে গন ছুটির অভিযোগ। চিকিৎসকরা পরিবারের সাথে ঈদ করবেন তাই চাপ কমাতে আগে ভাগেই রোগীদের ছুটি দিয়ে বিদায় করা হচ্ছে। যোগাযোগ করতে বলছেন ঈদের এক সপ্তাহ পরে।
তবে এমন অভিযোগ ভিত্তিহিন দাবী করেছেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের কোন রোগীই চায়না হাসপাতালের বেডে সুয়ে থাকতে। স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ করার ইচ্ছা সবারই থাকে। যে কারনে মোটামুটি সুস্থ রোগীরাও নাম কাটিয়ে স্বেচ্ছায় চলে যেতে যাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক নিয়মেই যেসব রোগী সুস্থ হয় তাদের নাম কাটা হয়। অসুস্থ রোগীর নাম কাটা হয়ে থাকলেও তার অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ করা হলে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে গতকাল শনিবার হাসপাতালে ঘুরে দেখাগেছে, বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই রোগী শূণ্য। শুধুমাত্র মহিলা মেডিসিন এবং প্রসুতী ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেশি রয়েছে। মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডের ইন-চার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স খুকু হালদার জানান, ওয়ার্ডটিতে ৪টি ইউনিটের মধ্যে ৫৫টি বেড রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল শনিবার রোগী ছিলো মাত্র ৩৫ জন। বাকি বেড গুলো শূণ্য পড়ে আছে। অথচ মাত্র কদিন পূর্বেও এ ওয়ার্ডটিতে কমপক্ষে ১২০ জনের অধিক রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিতো।
পরিচালক বলেন, এবারের ঈদে আমাদের রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোন ব্যাঘাত ঘটবে না বলে আশা করছি। কারন এবার ঈদে বেশিরভাগ চিকিৎসকই ছুটি যেতে যাচ্ছেন না। তারা ঈদের ছুটিতেও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া ঈদে বিগত ঈদের তুলনায় এবার ঈদে হাসপাতালে নার্সদের সংখ্যাও বেশি থাকবে। সেমত করেই হাসপাতালে ঈদের ডিউটি রোষ্টার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগে অর্থাৎ আজ ২৫ জুন এবং ঈদের পরে ২৮ জুন বহি:র্বিভাগ খোলা থাকবে। ৬ থেকে ৭ জন চিকিৎসক বহিঃর্বিভাগে রোগী দেখবেন। তাছাড়া বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদের দ্বিতীয় দিনেও সল্প পরিসরে বহিঃবিভাগ খোলা রাখা হবে।
এছাড়া হাসপাতালে মধ্যম পর্যায়ের চিকিৎসক এর সংখ্যা ১৫৬ জন। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে থাকবেন ৯২ জন চিকিৎসক। এছাড়া অধ্যাপক লেভেলের আরো ১৩ জন চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের চিকিৎসা এবং খোঁজ খবর নিবেন। তবে ঈদের ছুটির দুদিন অর্থাৎ ২৬ ও ২৭ তারিখের পরে চিকিৎসকদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
এদিকে হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক বলেন, তাদের মোট ৭২৮ জন সেবিকার মধ্যে ২৭৪ জন রয়েছেন হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী। এদের সাথে আরো যোগ করে ৩০৪ জন নার্সকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। একইভাবে তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির স্টাফদের দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। যে কারনে ঈদের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোন বিলম্ব হবে না বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।