ফরিদপুরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় ২৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১৪ জন। বুধবার রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কইডুবি এলাকায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কেএ দুর্ঘটনা ঘটে।

সোনার তরী পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগলে বাসটির চালক, সুপারভা্ইজার, হেলপার, শিশু ও নারীসহ ২৫ যাত্রী নিহত হয়।
স্থানীয় জনতা, ভাঙ্গা হাই-ওয়ে থানা পুলিশ ও ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তিন ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। উদ্ধার অভিযান চলাকালীন রাস্তার দুই ধারে বিশাল  যানজট সৃষ্টি হয়।
হাই-ওয়ে থানার ওসি হোসেইন সরকার জানান, ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সোনার তরী পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৭০৭৪) দুর্ঘটনাস্থলে আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এসময় বাসটির মাঝখান হতে দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। বেঁচে থাকা যাত্রীদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা প্রথমে এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেয়।
তিনি বলেন, বাসটির ভেতর থেকে ১৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।  আহত ২০ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ভাঙ্গা হাসপাতালে তিনজন ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন মারা যায়।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নিহতদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। নিহত ২৫ জনের পরিচয় পেতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সঠিক ঠিকানা বের করার চেষ্টা চলছে।
নিহত ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- আকলিমা আক্তার (১০), হাসনা বেগম (৪৫), মোঃ মিঠুন (১৭), বাহাদুর মিয়া (৩০), শফিকুল ইসলাম (২৫), আসমা বেগম (২০), আমেনা বেগম (২৫), হেলালউদ্দিন (৩০), আবজাল হোসেন (৩৫), সুর্য্য বেগম (৬০), রেজাউল হক (২৫), শাহিন (৩০), শাহারিয়ার কবির (২৮) ও মনিরুল ইসলাম (৩৫)।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, বাকি লাশের পরিচয় পাওয়া না গেলে দাফনের জন্য ফরিদপুর আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে পাঠানো হবে।

এদিকে এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুর রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।