প্রেমিক রুম্মানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী অবৈধ সন্তান নষ্ট করতে ব্যর্থ হয়ে কলেজ ছাত্রী পাখিকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর কাউনিয়া এলাকায় সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রী আছিয়া আক্তার পাখিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তার প্রেমিক ও কথিত স্বামী ছাত্রলীগ কর্মী মীর্জা আজমল হোসেন রুম্মান। তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অনৈতিক সম্পর্কের ফলে গর্ভে আসা সন্তান গর্ভপাত ঘটনাতে রাজি না হওয়ায় পাখিকে শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঘাতক রুম্মান বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। বিচারক মো. আনিসুর রহমান ১৬৪ ধারায় ঘাতক জবানবন্দি গ্রহন শেষে ঘাতক রুম্মানকে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ দেন। প্রেমিক ও কথিত স্বামী হলো, মুলাদী উপজেলার লক্ষীপুর জালালাবাদ গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মীর্জা জাকির হোসেন’র ছেলে মীর্জা আজমল হোসেন রুম্মান (২৪)। সে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ইংরেজী বিভাগের সম্মান শেষ বর্ষে পরীক্ষা দিয়েছে। এছাড়া কলেজের মুসলিম হলের ১০১ নম্বর কক্ষে থাকতো সে। নিহত পাখি সরকারী মহিলা কলেজ থেকে এই বছর চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী। গত ২১ এপ্রিল শনিবার রাতে কাউনিয়ার কালাখান বাড়ীর সোহাগ ভিলার দ্বিতীয় তলার বাম পাশের ফ্ল্যাট থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে মুলাদী উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। পাখির লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ কথিত স্বামী ছাত্রলীগ কর্মী রুম্মানকেও গ্রেপ্তার করে।
লাশ উদ্ধারের রাতেই পাখির বাবা মহানগরীর কাউনিয়া থানায় মীর্জা আজমল হোসেন রুম্মানের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর নির্দেশে হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। পাশাপাশি আটককৃত ছাত্রলীগ কর্মী রুম্মানকেও ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে পাখি হত্যা মামলার তদন্তভার গ্রহন করেন তারা। শনিবার রাত থেকে রুম্মানকে তাদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রোববার রাত পর্যন্ত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে একই স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। ঘাতক রুম্মান পুলিশের কাছে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে অনুযায়ী গতকাল সোমবার আদালতেও একই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
তার দেয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রুম্মান এবং পাখি একই গ্রামের বাসিন্দা। পাখিদের বাড়িতে আসা যাওয়া ছিলো রুম্মানের। সেই সুবাধে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। তাছাড়া পাখির পরিবারও বরিশালে তাকে দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। গত চার মাস পূর্বে মহিলা কলেজের আবাসিক হল থেকে পাখির সিট বাতিল হয়। এর পরে পাখির বাবার কথা মতো বাইরে অর্থাৎ কালাখার বাড়ি এলাকায় সোহাগ ভিলার দ্বিতীয় তলায় পাখিকে একটি রুম ভাড়া করে দেয়া হয়। তবে পাখির পরিবার জানতো বিএম কলেজ এলাকায় কোন একটি মেসে থেকে লেখা পড়া করছে পাখি।
স্বীকারোক্তিতে আরো বলা হয়, ভাড়া বাসায় পাখির কক্ষে এক সাথে বসবাস করতে যাতে সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পাখি ও সে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সোহাগ ভিলার রুম ভাড়া নেয়। সেখানে তার আসা-যাওয়া ছাড়াও রাত্রি যাপনও করতো। তারা দু’জনের বিয়ের কথাও ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মাঝে অনৈতিক কর্মের কারনে পাখি অন্তসত্ত্বা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে রুম্মান পাখিকে তার গর্ভের সন্তানের গর্ভপাত ঘটানোর জন্য বলে। কিন্তু এতে রাজি হয়নি পাখি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে পাখিকে জোর পূর্বক গর্ভপাত ঘটাতে চায় রুম্মান। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায় পাটের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাস রোধে পাখিকে হত্যা করেছে বলে রুম্মান স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
তাছাড়া ঘটনার একদিন পরে হত্যার বিষয়টি ধামা চাপা দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার নানা প্রচেষ্টার কথাও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ঘাতক ছাত্রলীগ কর্মী রুম্মান।