প্রেমিকাকে রাতভর শিকলে বেঁধে প্রেমিক ও বাবার অমানুষিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিন রূপাতলীয় এলাকায় এক ষোড়শীকে রাতভর বৈদ্যুতিক খাম্বার সাথে কোমড় এবং ২টি গাছের সাথে দুই হাত বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃস্টিতে ভিজে মশার কামড় সহ্য করে ওই অবস্থায় ১০ ঘন্টা থাকার পর গতকাল সকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওই তরুনীকে মুক্ত করেন। এর আগেই নির্যাতনকারী প্রেমিক ও তার বাবা পালিয়ে যায়। তরুনী এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেছে পুলিশ।
নির্যাতিত মেয়েটির নাম রিপা আক্তার। সে জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাকুলিয়া গ্রামের চুন্নু আকনের মেয়ে। বছর তিনের আগে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকাকালে স্থানীয় শাহাদাত হোসেন মিঠুন নামে এক যুবকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে ঘনিস্টতা বাড়ে।
মাস ছয়েক আগে রিপা বিয়ের জন্য চাপ দিলে মিঠুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালিয়ে ঢাকার গাজীপুরে গিয়ে চাকুরী করে। প্রেমের স্বীকৃতি আদায়ে রিপাও বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের চাকুরী ছেড়ে ৪ মাস গাজীপুরের একটি সোয়টার কারখানায় চাকুরী নেয়। সেখানে মিঠুন নানা ছলছাতুরী করে রিপাকে তার বন্ধুদের হাতে তুলে দেয়।
গত ২ জুন জয়দেবপুর থানা পুলিশ রিপাকে উদ্ধার এবং মিঠুকে গ্রেফতার করে করে। এ সব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মিঠুন কিছুদিন জেল খেটে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জামিনে বের হয়। রিপাকে তার মা সেইভ হোম থেকে ছাড়িয়ে আনে। গত সোমবার সকালে সমঝোতার কথা বলে মিঠুনের বাবা শানু হাওলাদার রিপার মায়ের মুঠো ফোনে রিং দিয়ে রিপাকে তার বাড়ি যেতে বলে।
রিপা জানান, ওইদিন রাত ৯টায় তাদের ঘরে পৌঁছামাত্র কোন কথা না বলেই শানু হাওলাদার মামলা তুলে নেবে কিনা জানতে চায়। পুরো বিষয়টির সুরহা ছাড়া মামলা তুলে নিতে অপরাগত জানালে তাকে রাত ১০টার দিকে দুটি গাছের সাথে রশি দিয়ে দুই হাত এবং শিকল দিয়ে কোমড় বেঁেধ রাখে বৈদ্যুতিক খাম্বার সাথে। এ সময় নানা কথার প্রেক্ষিতে তাকে দফায় দফায় নির্যাতন করে তারা। তিনি এই ঘটনার দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। তিনি বলেন, বিচার পাননি বলেই আজ এই অবস্থা।
এদিকে রিপার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা কৌতুহল নিয়ে রাত ভর তার করুন পরিনতি দেখলেও কেউ তাকে সাহায্য কিংবা বাঁধন খুলে দিতে এগিয়ে আসেনি। ওই বাড়ির মধ্যে এবং আশপাশে অন্তত ১৫টি পরিবার বসবাস করে।
ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া এক দিনমজুর বলেন, তিনি ডাক চিৎকার শুনে সেখানে গিয়ে রিপাকে গাছ ও লাইটপোস্টের সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখে আবার গিয়ে ঘুমিয়েছেন। যারা এই কাজ করেছে তারা স্থানীয়। ভাড়াটিয়া বলেই তিনি প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।
স্থানীয়রা বলেছেন, মেয়েটি কোন অন্যায় করলে পুলিশে দেয়া যেত। কিন্তু তাদের এটা করা উচিত হয়নি।
এটা অমানবিক, নিষ্ঠুর। স্থানীয় দুই একজন নারী ওই মেয়েটির সমালোচনাও করেছেন।
নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, লোকমুখে খবর পেয়ে সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাঁধা অবস্থা থেকে মেয়েটিকে মুক্ত করেন। তাকে সাহায্য করতে পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি। রিপাকে তিনি নিজ দায়িত্বে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছেন বলে জানান।
কোতয়ালী থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, রাতভর গাছের সাথে বেঁধে মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়েছে। সকালে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নির্যাতনকারী মিঠুন ও তার বাবা শানুকে গ্রেফতারের চেস্টা চলছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।