প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হবে রান্না করা খাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হবে রান্না করা খাবার (মিড ডে মিল)। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ি থেকে চাল-ডাল এবং মসলা নিয়ে আসবে স্কুলে এবং তা দিয়েই রান্না হবে এই খাবার। গতকাল রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে মিড ডে মিল কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরীর কাশিপুর ও সদর উপজেলার কড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে-মিল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক এস.এম ফারুক হোসেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের সহকারি পরিচালক মো. আরিফ বিল্লাহ্, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস.এম আমিরুল ইসলাম, সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসিমা বেগম, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, ফিল্ড মনিটর শায়লা আক্তার, ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মনিরুল ইসলাম সহিদ প্রমুখ।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, মিড-ডে-মিল স্কুল ফিডিং প্রকল্প-ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে শুধুমাত্র কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ আগ্রহ এবং উৎসাহ দেখা যায়। তারা এটিকে একটি বনভোজনের মত অনুষ্ঠান মনে করে মিড-ডে-মিল এর প্রতি বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে তার পরেও বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হবে কি না তা নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উপর। তারা চাইলে এই কর্মসূচী পরবর্তীতে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই নিয়মিত পালন করা হবে। আর এটা চালু হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।
এদিকে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইলিয়াস আলী খান জানান, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বাড়ি থেকে পরিমান মত চাল, ডাল, আলু, ডিম, তেল ও লাকরি বিদ্যালয়ে নিয়ে আসবে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাবুর্চী দ্বারা রান্না করে তা বেলা ১২টার পর শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশন করা হবে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও এসএমসির সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম সহিদ বলেন, সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রসংশনীয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলের প্রতি মনোনিবেশ বৃদ্ধি পাবে। এসএমসির সহযোগিতা ও অর্থসহযোগিতায় মাসে একবার এধরনের কার্যক্রম হাতে নেয়া যেতে পারে। তাই এই বিষয়টির প্রতি অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী ডেইজি আক্তার তুলি বলেন, স্কুলে আমাদের বিস্কুট খাওয়ানো হয়। বিস্কুট খেয়ে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থাকা খুব কষ্টকর হয়ে যায়। তাছাড়া এক খাবার প্রতিদিন ভালো লাগে না। তাই স্কুলে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালে অনেক ভালো হয়। স্কুলে সবার সাথে এই আয়োজন অনেকটা পিকনিকের মতো মনে হয় বলেও জানিয়েছে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী।
তবে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাচ্চাদের জন্য বরাবরই আনন্দদায়ক হয়ে থাকে। তবে অভিভাবকদের জন্য এটা একটি বাড়তি ঝামেলা বলে মনে হচ্ছে।
এর কারণ উল্লেখ্য করে, কাশিপুর ফিসারী রোডের বাসিন্দা তাহেরা ইয়াসমিন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই তার বাচ্চাটা বাটি, চামচ নিয়ে টানা হেচড়া শুরু করে। সে লেখাপড়া নিয়ে মনোনিবেশ না করে স্কুলে খাবার নিয়ে যেতে উদগ্রীব হয়। তাই এটা আয়োজন স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা ম্যানেজিং কমিটির করলে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী দুই জনের জন্যই ভালো হয়।
এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক এস.এম ফারুক হোসেন বলেন, সরকার চাচ্ছেন স্থানীয়ভাবে এধরনের কর্মসূচী পালন করা হোক। সেই চাওয়া থেকেই এসএমসির মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি স্কুলে কার্যক্রম চালু করেছেন। এতে বেশ সারা পাওয়া গেছে। অভিভাবকরা চাইলে এবং এমন ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তীতে প্রতিটি স্কুলে এই কর্মসূচী পালন করা হবে।