প্রাথমিকে সদর গালর্সের বৃত্তি বঞ্চিত ছাত্রীদের ক্ষুদ্ধ অভিভাবকদের ফল পুনঃ মুল্যায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বঞ্চিত হওয়ায় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার ঘোষিত ফলাফলে ওই বিদ্যালয় থেকে যারা বৃত্তি পেয়েছে তারা বঞ্চিতদের চেয়ে কম মেধাবী দাবি করেছে অভিভাবকরা। ফলাফলে বড় ধরনের গরমিল হয়েছে দাবি করে অভিভাবকরা ফলাফল পুনরায় মুল্যায়নেরও আবেদন করেছেন। এই জন্য বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা গতকাল সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জড়ো হয়।

ফলাফল গরমিলের স্বীকার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিএসসির ৭৮৩৭ রোল নংয়ের ছাত্রী রুকাইয়া তাবাসসুম ¯েœহা’র মা ফাহিমা তালুকদার অভিযোগ করেন, তার মেয়ে ¯েœহার শ্রেনী রোল-১। বিদ্যালয়ের দিবা শাখার সি’ সেকশন এর ছাত্রী সে। বিগত তিন বছর ধরে ¯েœহা প্রতি শ্রেনীতে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। তার পরীক্ষাও যথেষ্ঠ ভাল হয়েছে। তবে কেন সে বৃত্তি পাবেনা এমন প্রশ্ন সবার। শুধু সেই নয় দিবা শাখার সি’ সেকশনের কোন ছাত্রীই বৃত্তি পায়নি। যা বিগত দিনে আর হয়নি। তুলনামূলক স্বল্প মেধাবী শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পেয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, তবে কেন তার মেয়ের মত মেধাবীরা যারা বরাবরই মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে আছে তারা কেন বৃত্তি পায়নি? এই সমস্যা যদি শুধু তার মেয়ের একার হত তবে হয়ত দুর্ভাগ্য বলে মেনে নেয়া যেত। কিন্তু সমস্যা যখন সিংহভাগ শিক্ষার্থীর। তখন এখানে কোন বড় ধরনের ভুল হতে পারে বলেও ধারনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এই সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে একই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন পিএসসির ৭৯০১ রোল নংয়ের তিথি দে। এমন অভিযোগ রয়েছে আরও প্রায় শতাধিক ছাত্রীর অভিভাবকদের। তাদের দাবী পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের। কারন তারা তাদের সন্তানের মেধা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা। এই বিষয় সুষ্ঠ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তাদের যা করা প্রয়োজন তারা তাই করবেন বলেও জানিয়েছেন। শুরুতে সকালে এমন ফলাফল গরমিলের স্বীকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর পুনঃ মুল্যায়ন প্রসংগে আবেদন করেছেন। একই সাথে জোরালো দাবী জানিয়েছেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের।
এ বিষয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেন জানান, প্রভাতী ও দিবা শাখায় মোট ৪টি সেকশন রয়েছে। বিগত বছর গুলোতে পিএসসি বৃত্তির ফলাফল চার সেনশন সমানভাবে আসতো। তবে এবার দিবা শাখার সি’ সেকশনে ৭০ শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বৃত্তিও আসেনি। এমনটা আগে কখনও হয়নি। এছাড়া গত পিএসসিতে বিদ্যালয় মোট প্রাপ্ত বৃত্তি ছিল ৪০টি এবার ২৯টিতে এসেছে। তাই সার্বিক দিক চিন্তা করে অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃ মূল্যায়নের আবেদন করা হয়েছে। সকল শিক্ষার্থী পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করতে পারবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সাধারণত পুনঃমূল্যায়নের আবেদন অ+ প্রাপ্তরা করতে পারে না। তবে যেহেতু বিষয়টি একটু গোলমেলে তাই তারাও যাতে আবেদন করতে পারে সেই চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিভাবকদের আবেদনপত্র গ্রহন করা হয়েছে যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর প্রেরনের প্রকৃয়া চলছে। সমস্যাটি নিয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।