প্রশ্নবিদ্ধ মানের গম অসহায়দের ঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল খাদ্য গুদামে থাকা পচা ও নি¤œ মানের গম জুটলো অসহায় এবং গরিবদের কপালে। কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে এসব পচা ও নি¤œ মানের গম বিলিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে ব্রাজিল থেকে আমদানীকৃত সেই জীরা গমের চিহ্নও দেখা যাচ্ছেনা বরিশাল খাদ্য গুদামে।
বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি চছরের ফেব্রুয়ারী এবং মার্চ মাসে ব্রাজিল থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন গম আমদানী করা হয়। এসব গম আকাড়ে ছোট হওয়ায় এর নাম দেয়া হয় জিরা গম।
এদিকে আমদানীকৃত গমের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন গম বরিশাল বিভাগ তথা ৬ জেলার জন্য সরকারী ভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ২ হাজার ৮৭৪ মেট্রিকটন, ঝালকাঠি জেলায় ৯৬৩ মেট্রিকটন, পিরোজপুর জেলায় ২ হাজার ৫৬৫মেট্রিকটন, ভোলা জেলায় ২ হাজার ৩৫১ মেট্রিকটন, পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার ৪৪৮ মেট্রিকটন এবং বরগুনা জেলায় ৩ হাজার ৭৯৭ মেট্রিকটন গম মজুত করা হয়। এ গমগুলো গত ১লা এপ্রিল থেকে ডিলারদের মাঝে সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু আকাড়ে ছোট, পোকা ধরা এবং দুর্গন্ধ যুক্ত। তাছাড়া এ গম ব্রাজিলে গো-খাদ্য (গরুর খাবার) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ডিলাররা জিরা গম সরবরাহ অপরাগতা প্রকাশ করেন। যার ফলে গুদামে মজুতকৃত গম নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কদিন পর্বেও নি¤œ মানের গম খাদ্য বিভাগের গুদামে সংরক্ষিত থাকলেও এখন তার অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সহসাই জিরা গম বিতরন করা হয়েছে। ফলে ব্রাজিলে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত জিরা গমের স্থলে নতুন করে মজুত করা হয়েছে ফ্রান্স এবং জর্মান থেকে আমদানীকৃত গম। নতুন ভাবে আমদানীকৃত এই গমেও ত্রুতি থাকা সত্যেও সেগুলোও ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহের প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকালে বরিশাল সদর এলএসডি গোডাউনে গেলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এখানকার কর্মরত সহকারী পরিদর্শক জানান, ব্রাজিল থেকে আমদানীকৃত সেই জিরা গম এখন আর তাদের কাছে গুদামে নেই। সেগুলো কয়েকদিন আগেই শেষ হয়েগেছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির মাধ্যমে এই গম বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সহকারী পরিদর্শক জানান, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে কাবিখা কর্মসূচিতে যেসব শ্রমিক কাজ করেছে সেসব শ্রমিকদের মাঝে নি¤œ মানের ঐ গম বিতরণ করা হয়েছে। যে কারনে সহসাই গমগুলো শেষ হয়ে গেছে। শুধু সদর এলএসডিতেই নয়, বরিশাল জেলা এবং বিভাগের প্রতিটি খাদ্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয় থেকেই কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রাজিলের নি¤œমানের সেই গম বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এলএসডি’র এই কর্মকর্তা।
অপরদিকে বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশিল সূত্র জানায়, শুধু মাত্র কাবিখা কর্মসূচিতে অংশগ্রহনকারী শ্রমিকদের মাধ্যমেই নয়। পুলিশ প্রশাসনের রেশমেও দেয়া হয়েছে এই গম। ঠিকাদারের মাধ্যমে গম ভাঙ্গি আটা প্রস্তুত করে তার পর পুলিশেল রেশমের সাথে নি¤œ মানের গমের আটা সরবরাহ করায় সেই গমের আর কোন অস্তিত্বই নেই। তবে বরিশাল জেলার বাইরে বিভাগের অন্য দুই একটি জেলার খাদ্য গুদামে এখনো কিছু সংখ্যক নি¤œ মানের জিরা গম মজুত রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন সূত্রটি।
এ বিষয়ে বিভাগীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর সাথে গতকাল শনিবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।