প্রশ্নবিদ্ধ পলিটেকনিকের ছাত্র রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকারী বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শিক কর্মকান্ডের বালাই নেই। এখানে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বেশি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় উভয় সংগঠনের কোন কমিটি না থাকায় দাবিদার নেতাদের এমন কর্মকান্ডে শুধু নগরবাসী নয়, দেশবাসী ক্ষুব্ধ। সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ আইনশৃংখলায় নিয়োজিত বাহিনী। এখানকার ছাত্র নেতাদের কর্মকান্ডে পুলিশের কয়েক কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইনষ্টিটিউটের বা বহিরাগত ছাত্রীদের নিয়ে প্রায় নিয়মিত হয়ে পড়া এখনকার ছাত্রনেতা-কর্মীদের মারধর ও সংঘর্ষে জড়ানো এবং ইভটিজিংয়ের কান্ড নিয়ে সব সময় সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়। প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকান্ডের ঢাল হিসেবে ছাত্র সংগঠনকে ব্যবহার করছে।
কিন্তু এরপরেও তাদের সঠিক পথে নেয়ার কোন নির্দেশনা বা উদ্যোগ নেয় না দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের ও ছাত্র সংগঠনের জ্যেষ্ঠরা। যার কারনে প্রায়ই ঘটে বেপরোয়া কর্মকান্ড।
এখানে ২০০৩ সালে ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির আহবায়ক ছিলো ছাত্রদলের জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুল আলম মিঠু। ২০০৬ সালের পর আর ক্যাম্পাসে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেনি সে। এই সুযোগে সুজন হাওলাদার বাবু ও ফাহাদ নামে দুই নেতা দাবি করাও বর্তমানে নিস্ক্রিয় রয়েছেন। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আর গ্রুপিংয়ের কারনে কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের কার্যক্রমে শুরু হওয়া ভাটায় আর জোয়ার আসেনি। বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে মামলায় জড়িয়ে পড়ায় ছাত্রদলের নেতা দাবীদার আত্মগোপনে যায়। এতে বর্তমানে দুর্বল এখানকার ছাত্রদলের কর্মকান্ড। কিছু নেতা-কর্মী থাকলেও তারা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
এখানে সর্বশেষ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয় ২০০৫ সালে। ওই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং সাধারন সম্পাদক মো. ওয়াহিদুর। পরে সর্বশেষ ২০১১ সালে রেজাউল করিম রেজাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে একটি মৌখিক কমিটি গঠন করা হয়।
সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জেলার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠে। ওই সময়ে রাজ্জাকসহ কয়েকজনকে র‌্যাব ও পুলিশ আটক করে। সেই থেকে শুরু হওয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রাখে পরের মৌখিক কমিটির নেতৃবৃন্দ ও তাদের কর্মীরা।
ছাত্রলীগের কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড না থাকলেও নেতা পরিচয় দেয়া ছাত্ররা ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা সিট ও ভর্তি বানিজ্য, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সেবন, ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম করে।
এতে ক্যাম্পাসে ভীতিজনক পরিস্থিতির তৈরি হয়। ক্যাম্পাসে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘাত বা ঘটনা ঘটে যাওয়ার আতংকে তটস্থ থাকতো আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। কারণ এই ক্যাম্পাসে সৃষ্ট ঘটনার জন্য কোতয়ালী মডেল থানার এক ওসিসহ দুই দারোগাকে শাস্তি পেতে হয়। তাই ক্যাম্পাসে কোন ঘটনা ঘটলেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের নামে ক্ষুব্ধ বহি.প্রকাশ ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই গোলাম কবির বলেন, নগরীতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পলিটেকনিকে বেশি সমস্যা হয়। তাই সব সময় সেখানে পুলিশের নজরধারী থাকে। সমস্যা বেশি হওয়ার আশংকা থাকলে পুলিশ মোতায়েনও রাখা হয়।
ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম রেজা জানান, কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। বরিশাল পলিটেকনিক ছাত্রলীগের । সংঘর্ষে জড়ানো সম্পর্কে বলেন, ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে ছাত্রদলের কর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
ছাত্রদল নেতা সুজন হাওলাদার বাবু জানান, বর্তমান সরকারের ক্ষমতামলের প্রথম ৬ বছর পলিটেকনিকের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ছিল। কিন্তু কমিটি না থাকায় গত দুই বছর ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে।