প্রয়াত ও জনপ্রিয় সাবেক মেয়র হিরনের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নগরীতে শোকের আবহ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আর মাত্র তিন দিন পর বরিশাল বাসীর প্রিয়জন হারানো শোকের দিন। ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল প্রিয় বরিশালবাসীকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান বরিশাল সিটির সাবেক সফল মেয়র, রাজনীতিতে সহ অবস্থান সৃষ্টিকারী নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের এমপি শওকত হোসেন হিরণ। দেখতে দেখতে প্রিয় এই মানুষটির মৃত্যুর একটি বছর পেরিয়ে গেছে। তবুও প্রিয়জন হারানোর শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখানকার মানুষগুলো। সাবেক এই সফল মেয়র’র কর্ম, গুন ও স্মৃতি বিজড়িত উন্নয়ন বারবার স্মরন করিয়ে দিচ্ছে তিনি আজও আছেন আমাদের মাঝে। তাই শান্তি প্রিয় এই নেতার মৃত্যু বার্ষিকীকে ঘিরে আরো একবার রাজনীতিতে সহাবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। সকল দ্বন্দ্ব, বিভেদ ও গ্রুপিং ভুলে মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপনে এক হয়েছেন মহানগর ও জেলা আ’লীগ। এমনকি কর্মসূচি গ্রহনের দিক থেকে পিছিয়ে নেই বিএনপি নেতৃবৃন্দ। জননন্দিত সাবেক মেয়র প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ’র প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় তার মৃত্যু বার্ষিকী পালনে নগর জুড়ে চলছে ব্যাপক আয়োজন। প্রয়াতের রূহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ, দোয়া-মোনাজাত, আলোচনা সভা সহ নানা কর্মসূচি। এদিকে প্রয়াত এই জনপ্রিয় নেতার মৃত্যু বার্ষিকীকে ঘিরে নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোড সহ প্রতিটি ওয়ার্ড এবং প্রধান সড়ক ছেয়ে গেছে পোষ্টার, ব্যানার, বিল বোর্ড আর কালো কাপড়ে ঘেরা তোড়নে। সব মিলিয়ে শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যু বার্ষিকীর কদিন পূর্বেই শোকের নগরীতে পরিনত হয়েছে মহানগরী। মহানগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম পরিবর্তনকে জানান, সাবেক সফল মেয়র প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ বরিশাল আওয়ামী লীগের উন্নয়নে অনেক অবদান রেখেছেন। তার জীবদ্দশায় রাজনীতিতে সহাবস্থান তৈরী করে শান্তির নগরীতে রূপান্তরিত করেছেন। সিটির মেয়র থাকা কালে এই নগরীকে মডেল নগরীতে রূপান্তর করে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এসব করে তিনি শুধুমাত্র নিজ দলের মধ্যেই নয়, অর্জন করেছেন অন্যান্য দল এবং সাধারন মানুষের ভালোবাসা। তিনি জানান, বরিশাল সিটির এই জননন্দিত সাবেক সফল মেয়র প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী আগামী ৯ এপ্রিল উদযাপন করবেন তারা। যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে মৃত্যু বাষির্কী পালনের লক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দুই দিন ব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ এপ্রিল মৃত্যু বার্ষিকীর দিন সূর্যদয়ের সাথে সাথে শহীদ সোহেল চত্ত্বরের দলীয় কার্যালয়ে কালোপতাকা উত্তোলন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, নেতা-কর্মীদের শোকের প্রতীক কালো ব্যাচ ধারন, সকাল ৯টায় মুসলিম গোরস্থানে প্রয়াতের কবর জিয়ারত ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, দিন ব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত ও বাদ মাগরিব মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত।
এছাড়া ৯ এপ্রিল প্রতিটি ওয়ার্ডে দিনভর কোরআন তেলাওয়াত, ওয়ার্ডের ৩৬০টি মসজিদে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত, কোন কোন ওয়ার্ডে আয়োজন আয়োজন করা হয়েছে কাঙ্গালী ভোজ। তাছাড়া ১০ এপ্রিল শুক্রবার বাদ জুম’আ নগরীর মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করবে নগর আওয়ামী লীগ।
প্রয়াত এই নেতার কর্মসূচি সফলে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন নগর আওয়ামীলীগ ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনিও মৃত্যু বার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ গ্রহনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। নগরের গুরুত্বপূূর্ন স্থানে শওকত হোসেন হিরনের স্মরণে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শোভা পাচ্ছে শোক সম্বলিত ফেস্টুন ও ব্যানার। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে তরুন নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এগিয়ে এসেছেন। নিজ উদ্যোগে আয়োজন করেছেন মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের। এদিকে সিটির সাবেক সফল মেয়র শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যুবার্ষিকী পালনে দিন ব্যাপী কর্মসূচি গ্রহন করেছেন সিটির বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল। বর্তমান এই মেয়র কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হওয়ার পরেও প্রয়াত হিরণ’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার প্রতিষ্ঠিত সহাবস্থানের রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতে দলমত নির্বিশেষে মৃত্যু বার্ষিকী পালনের আয়োজন করেছেন। মেয়র আহসান হাবিব কামালের গৃহিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মিলাদ, দোয়া-মোনাজাত ও আলোচনা সভা। এর পাশাপাশি মৃত্যু বার্ষিকী পালনে কর্মসূচি গ্রহন করেছে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন। তাছাড়া মরহুমের পারিবারিক ভাবেও মৃত্যু বার্ষিকী পালনে মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত’র আয়োজন করেছেন প্রয়াতের সহধর্মীনি বরিশাল সদর আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ।
অন্যদিকে প্রিয় এই নেতার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালনের লক্ষ্যে নানামুখি কর্মসূচি গ্রহন করেছে নগরী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বরিশাল ক্লাবে আয়োজন করা হয়েছে স্মরন সভা ও দোয়া-মোনাজাত, বান্দ রোডের প্লানেট পার্কে আয়োজন করা হয়েছে মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি। এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ছিলো সেইসব প্রতিষ্ঠান গুলোতেও মিলাদ, দোয়া-মোনাজাত এবং শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে ১৬ নং ওয়ার্ডে সারাদিন কুরআন খতম ও ইয়াতিমদের খাবার বিতরনের ব্যবস্থা করেছে ব্যবসায়ী মোঃ লিয়াকত আলী লিকু। এদিকে প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নগরী ছেয়ে গেছে পোষ্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর শোকের প্রতীক কালো পতাকায় ঘেরা তোড়নে। নগরীর প্রান কেন্দ্র সদর রোড, বিবির পুকুর পাড়, জিলা স্কুল মোড় সহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ন পয়েটে শোভা পেয়েছে হিরনের স্মৃতি বিজড়িত ছবি ও নানা উন্নয়ন। নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে বিভিন্ন রকমের পোষ্টার, রাস্তার মাঝে স্থাপন করা হয়েছে হিরণ’র প্রতিকৃতি। এছাড়া নগর জুড়ে প্রায় ৩০টি কালোকাপড় দিয়ে তোড়ণ নির্মান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম।