প্রভাবহীন হরতাল ॥ তিন শিবিরকর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জামায়াতে ইসলামী’র কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার’র প্রতিবাদে ডাকা হরতালে প্রভাবমুক্ত ছিলো নগরী সহ গোটা বিভাগের জনপদ। প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে হরতালের স্ব পক্ষে কোন মিছিল কিংবা নাশকতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে নাশকতার প্রস্তুতি কালে নগরীতে তিন শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটক হওয়া তিন শিবির নেতা-কর্মীরা হলো- ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও বিমানবন্দর থানা শিবিরের স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, ইসলামীয়া ডিগ্রী কলেজের ছাত্র ও ২৯নং ওয়ার্ড শিবিরের সেক্রেটারী মোস্তাফিজুর রহমান ও শিবির কর্মী সাকিল বেপারী। এদের বিরুদ্ধে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ এনে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন।
তিনি জানান, হরতালে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো তিন শিবির নেতা-কর্মী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে রূপাতলী হাউজিং এলাকায় একটি মসজিদ থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি আটকের ঘটনা ছাড়া নগরী সহ বিভাগের কোথাও জামায়াতের হরতালের সমর্থনে মিছিল কিংবা পিকেটিং এর ঘটনা ঘটেনি। সারা দেশে হরতাল ডাকা হলেও গতকাল সকাল থেকেই বরিশাল-ঢাকা সহ দুরপাল্লার সকল রুটে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরিন সকল রুটে যাত্রী ও মালবাহী পরিবহন চলাচল পূর্বের মতই চলাচল করেছে। নগরীর আভ্যন্তরিন রুটে গনপরিবহনও চলাচল করেছে। অবশ্য নাশকতার আশংকায় যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিলো বলে দাবী করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। তবে নির্বিঘেœ যানবাহন চলাচলের লক্ষে নগরী সহ বিভাগে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিলো। টহল টিমের পাশাপাশি ছিলো তল্লাশী চৌকিও। বিশেষ করে মহানগর এলাকায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য হরতারের বিরুদ্ধে জনগনের পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শাখাওয়াত হোসেন। প্রশাসনের নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারনে নগরীর সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা ও অফিস আদালত পূর্বের মতই খোলা ছিলো। গ্রাহকদের উপস্থিতিও ছিলো স্বাভাবিক।