প্রধানমন্ত্রীর বরিশালের প্রতি আলাদা টান রয়েছে- এমপি নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম-এমপি বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বরিশালের প্রতি একটি আলাদা টান রয়েছে। তিনি বরিশালবাসিকে ভালোবাসেন। কারন তারা ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছেন। তাই বরিশালবাসীকে কোন কথা দিলে তিনি তা কখনও ভোলেন না। ইতিপূর্বে বরিশালবাসীকে যে কথা তিনি দিয়েছিলেন তার সবগুলো কথাই রেখেছেন। তিনি বরিশালে শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বৃহত্তর পায়রা বন্দর স্থাপন করেছেন। বরিশালের মানুষ এখন খুব কম সময়ে কুয়াকাটায় যেতে পারছে। কুয়াকাটাকে আমরা পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলেছি। যোগাযোগের জন্য নির্মান করেছি সেতু। বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা দেয়া হয়েছে। আইসিইউ’র অভাবে শওকত হোসেন হিরন এর মত আর কোন মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে না।

গতকাল রোববার দুপুর ১টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের নাসিমুজ্জামান মেহেদী মিলনায়তনে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বরিশাল কর্তৃক আয়োজিত বিভাগীয় চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেছেন।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে হারানোর চেষ্টা করবেন না। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রকে ভয় পায়না। তাই সাবধান হউন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচন কোন সহায়ক সরকারে নয়, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এ দেশে সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী জানালে সেটা আমরা মেনে নিতে রাজি আছি। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন বানচাল করতে জ্বালাও-পোড়াও করে লাভ হবে না। আমরা তা কঠোর হস্তে দমন করব। তাই জনগনকে ভয় পেয়ে বিদেশে না থেকে নির্বাচনে আসুন। ফাইনাল খেলা হবে মাঠে। জনগনের ভোটেই আওয়ামীলীগ আবারো বিজয়ী হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে দেশের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এদেশে যত উন্নয়ন হয়েছে তা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, খাদ্য, শিক্ষা, বানিজ্য এবং বাসস্থান সহ সকল খাতেই আমরা উন্নয়ন করেছি। এক সাথে ১০ হাজার চিকিৎসক এবং ১০ হাজার নার্স নিয়োগ একমাত্র শেখ হাসিনাই দিতে পেরেছেন। বর্তমান সরকারের আমলেই আরো ১০ হাজার চিকিৎসক এক সাথে নিয়োগ দেয়া হবে।

কিন্তু বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকালে গ্রাম পর্যায়ে মানুষের দোড় গোড়ায় মানুষের চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে শেখ হাসিনার চালু করা ১৪ হাজার কমিউনিটি হেলথ্ ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জননেত্রী শেখ হাসিনা বন্ধ হওয়া কমিউনিটি হেলথ্ ক্লিনিকগুলো পুনরায় চালু করেছেন। আজ ভারত-পাকিস্তানের থেকেও আমরা স্বাস্থ্য সেবায় সব থেকে এগিয়ে আছি।

জনগনের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। এই উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিয়ে যেতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আর একবার সুযোগ দিন। তিনি সুযোগ পেলে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে চলমান সকল উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। তারা হাওয়া ভবনে বসে আবার দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সকল উন্নয়ন বন্ধ করে দিবেন। মানুষ আবার উন্নয়ন বঞ্চিত হবেন। তাই শেখ হাসিনার কিংবা আওয়ামীলীগের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগকে আরো একবার উন্নয়নের সুযোগ দিতে জনগনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিভাগীয় চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও শেবাচিম হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি। তিনি বলেন, বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলবাসী ছিলো অবহেলিত। কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এই অঞ্চলে। দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠি কখনই ভাবেননি যে পদ্মা সেতু পার হয়ে তারা ঢাকায় যাবেন। বরিশালবাসীর প্রানের দাবী ছিলো পদ্মা সেতু। আর জনগনের এই দাবীকে জননেত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। খুব শিঘ্রই পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে।

বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া তুলে ধরতে গিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি বলেন, আমিও এই অঞ্চলের বাসিন্দা। তাই আমি নিজেও অবহেলিত। তাই অবহেলিত মানুষের দুর্দশার কথা আমিই ভালো বুঝব। এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত এর দায়িত্ব আমাদের। তাই বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে একটি স্বতন্ত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবী জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট। সেই সাথে শেবাচিম হাসপাতালে পূর্ব পার্শ্বে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনের কাজ সম্পন্ন এবং বাস্তবিকভাবে শেবাচিম হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি সহ সকল সমস্যা সমাধানের দাবী জানিয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি বলেন, প্রধান মন্ত্রী বরিশালবাসীকে ভালো বাসেন। তিনি বরিশালের উন্নয়ন করেছে এবং সামনেও করবেন। বরিশালবাসীর কথা ফেলতে পারবেন না তিনি। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলে অতিদ্রুত শেবাচিম সহ বরিশালবাসীর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের দাবী জানান আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

তার দাবীর পরিপ্রক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম-এমপি বলেন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র কথা রাখতে শেবাচিম হাসপাতাল সহ বরিশালের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষনা দেন। যা আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে বরাদ্দের আশ্বাস দেন। একই সাথে হাসপাতালে পূর্ব পাশে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে থাকা পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনের কাজ আগামী ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্নের বিষয়ে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। গনপূর্ত বিভাগের সহযোগিতায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভবনের কাজ শেষে করে আমি নিজে পুনরায় বরিশালে এসে ভবনটির উদ্বোধন করব।

বিভাগীয় চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক এমপি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বরিশাল-২ আসনের এমপি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল সদর-৫ আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল-৩ আসনের এমপি এ্যাড. শেখ মো. টিপু সুলতান, বিএমএ’র মহাসচিব মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল।

অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সরফুদ্দিন আহমেদ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর প্রমূখ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ভাস্কর সাহা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম, বরিশালের ডিআইজি শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বরিশাল জেলার সভাপতি ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু সহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, বরিশালের ছয় জেলার সিভিল সার্জন সহ বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা অংশগ্রহন করেন বিভাগীয় সমাবেশে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএমএ বরিশাল জেলার সাধারন সম্পাদক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন।

এর পূর্বে মন্ত্রী বরিশালে এসে সর্ব প্রথম শেবাচিম হাসপাতালের ১০ শয্যা বিশিষ্ট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটি (আইসিইউ) ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সেখান থেকে মেডিকেল কলেজ কনফারেন্স কক্ষে স্থানীয় চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিয়ম সভা হয়। সেখানে হাসপাতাল এবং কলেজের নানা সমস্যা এবং এর সমাধানের দাবী তুলে ধরেন চিকিৎসকরা।