প্রথম দিনে পশু শুণ্য হাটে বেপারীদের অপেক্ষায় ইজারাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গতকাল থেকে মিলতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুর হাট। সে অনুযায়ী গতকাল বুধবার থেকে মহানগরীর হাট গুলোতে পশু আসতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে হাটের নিরাপত্তায় সকাল থেকে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এদিকে কোরবানীর হাট মিলতে শুরু করলেও প্রথম দিনে পশুর সংখ্যা তেমন ছিলো না। বিশেষ করে মহানগরীর ২১টি হাটের মধ্যে বিসিসি এলাকার ৯টি হাটে পশু নেই বললেই চলে। অবশ্য গ্রাম অঞ্চলের হাট গুলোর চিত্র অনেকটা ভিন্ন দেখা গেছে। এসব হাটে ইতিমধ্যে বেচা-বিক্রিও শুরু হয়েছে। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে মহানগরীর হাট গুলো জমে উঠতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা।
জানাগেছে, আর চার দিন বাদেই পবিত্র ঈদ উল আযহা। পশু কুরবানীর মাধ্যমে ঈদ উল আজহা উদযাপন করা হবে। আর তাই দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের স্থানীয় এবং অস্থায়ী হাট গুলোতে পশু আসতে শুরু করেছে। অবশ্য শর্ত অনুযায়ী গতকাল থেকে হাটের প্রথম দিন বিধায় কোন হাটেই তেমন পশু দেখা যায়নি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং সদর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানাগেছে, এবার বিসিসি এবং সদর উপজেলা এলাকায় মোট ২১টি হাট বসেছে। এর মধ্যে বিসিসি এলাকায় ৯টি। যার মধ্যে স্থায়ী হাটের সংখ্যা ২টি।
মহানগরীর থানা ভিত্তিক কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় হাটের সংখ্যা ৬টি, বন্দর থানা এলাকায় ২টি, কাউনিয়া থানা এলাকায় ৫টি এবং সর্বচ্চ ৮টি হাট বসেছে এয়ারপোর্ট থানা এলাকায়। বিসিসি এলাকার ৯টি হাটের মধ্যে রয়েছে নগরীর পোর্ট রোড কশাই খানায় স্থায়ী গরুর হাট, রূপাতলী ২৪নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি মাদ্রাসা সংলগ্ন বালুর মাঠ, এর আগে সোনারগাও টেক্সটাইল মিলের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, ২৫নং ওয়ার্ডে উকিলবাড়ি সড়কের বিপরিতে, নগরীর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে, নবগ্রাম রোডে একটি, কাউনিয়া টেক্সটাইল এলাকায়, ৪নং ওয়ার্ডের টিভি হাসপাতাল মাঠ এবং বাঘিয়ায় স্থায়ী পশুর হাট সহ মোট ৯টি হাট বসছে সিটি এলাকায়।
গতকাল বুধবার হাপের প্রথম দিন নগরীর হাট খোলা কশাই খানা’র গরুর হাটে গিয়ে দেখাগেছে, হাটের পুলিশ ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। এছাড়া মাইকের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। তবে হাটে তেমন গরু বা ছাগল দেখা যায়নি। প্রথম দিন এই হাটটিতে ৩টি গরু এবং ২টি ছাগল দেখাগেছে। বিকালে বেশ কয়েকজন ক্রেতাকে গরুর হাটটিতে আসতে দেখা গেছে।
হাটের ইজারাদার প্রিন্স মাহামুদ সোহেল বলেন, বিভিন্ন স্থানে গরুর বেপারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বৃহস্পতিবার থেকে আসতে শুরু করবে। তবে শুক্রবার থেকে হাটে গরু এবং ছাগলের সংখা বৃদ্ধি পাবে। বেচা-কেনাও ঐদিন থেকে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি মাদ্রাসা সংলগ্ন হাটের ইজারাদার নাজমুল হুদা বলেন, প্রথম দিন হলেও আমাদের হাটে কিছু সংখ্যক পশু এসেছে। তবে হাটের তুলনায় তার সংখ্যা খুবই নগন্য। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা ১০/২০টি গরু এনে নিজ নিজ এলাকায় রেখে বিক্রি করছে। ফলে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত হাটে আসতে শুরু করেনি। ঐসব স্থানে বসেই গরুর বেচা বিক্রি করছে। যে কারনে ঐসব স্থানে পশুর বেচা-কেনা বন্ধ করার জন্য বিসিসি এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নগরীর হাট গুলো প্রথম দিনে তেমন জমজমাট না হলেও গ্রাম অঞ্চলের হাটগুলো কিছু হলেও জমে উঠেছে। বিশেষ করে বরিশালের বাইরে বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, বিমানবন্দর এলাকার রহমতপুর, সাহেবের হাট এলাকার হাট গুলোতে নিজস্ব খামারের গরু উঠানো হয়েছে বিক্রির উদ্দেশ্যে। বেচা-কেনাও হচ্ছে মোটামুটি। সকলেই দাবী শুক্রবারের মধ্যে হাটের বেচা-কেনা ভালো ভাবেই জমে উঠবে।