প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক রাসেলের ফাঁসির দন্ডাদেশ

রুবেল খান ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বছরের ইতিহাসের অন্যতম বিয়োগান্তক ঘটনায় কলংকজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। এক ঘটনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছে দুই মেধাবীকে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী নয়, দুই মেধাবীর পরিবার হারিয়েছে স্বচ্ছল জীবনযাপনের স্বপ্ন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী নগরীর মধ্যে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাওদা হত্যা মামলার রায়ে কথিত প্রেমিক হত্যাকারী রাসেল মিয়াকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আনোয়ারুল হক রায় ঘোষনা করেন। ফাঁসির দন্ড পেয়ে এজলাসে শোকরানা আদায় করা হত্যাকারী রাসেল মিয়া রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চাদালতে আপীল করারও সুযোগ পাবে। বিচারক আপীলের সময় বেধে দিয়েছেন মাত্র ৭ দিন। এর মধ্যে আপীল না করলে একটি মাত্র সুযোগ খোলা থাকবে। তা হলো রাষ্ট্রপতির কাছে প্রান ভিক্ষা চাওয়া।
দন্ডপ্রাপ্ত রাসেল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার জ্ঞানপাড়া গ্রামের হারুন মাতুব্বরের ছেলে। সে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলো।
তার ধারালো দায়ের আঘাতে নিহত ছাত্রী সাওদার বাবা মুুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক রায় ঘোষনার সময় আদালত প্রাঙ্গনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় তিনি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাসেল মিয়ার ফাঁসির আদেশে তার মৃত কন্যার আত্মা শান্তি পাবে। তাই দ্রুত ফাঁসির দন্ডাদেশ কার্যকরের দাবী করেন তিনি। নিহত সাওদা আক্তার (২২) একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলো। সাওদা পাথরঘাটা উপজেলার হাতেমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
তবে রায়ে সন্তুষ্ট হননি আসামী পক্ষের আইনজীবী নাজিম উদ্দিন আলম পান্না ও রাসেলের বাবা দিন মজুর হারুন মাতুব্বর। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানিয়েছেন।
পিপি এ্যাড. গিয়াস উদ্দিন কাবুল সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রেমে প্রত্যাখ্যাত কথিত প্রেমিক রাসেল মিয়া নগরীর ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড রোডে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ওই দিন সাওদাকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে বেসরকারী হেলিকপ্টারে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু বিকাল ৫টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাওদার।
এদিকে মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে ঘটনার দিন রাতেই নিহত সাওদার মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাসেল মিয়া ও তার সহপাঠি বিপুল বাড়ৈসহ আরো ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। তবে হত্যাকান্ডের পর থেকে পালিয়ে যান ঘাতক রাসেল। পরে রাসেলকে চট্টগ্রামের ধুমপাড়া মোড় এলাকার শাহ আমানত টেলিকম নামক একটি ফোনের দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করেছে প্রতারনা করায় হত্যার উদ্দেশ্যেই সে একাই ‘দা’ দিয়ে কুপিয়েছে সাওদাকে। সাওদাকে হত্যা করার পর সে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলো। তার মধ্যে কোন অপরাধবোধ ছিলো না। এর জন্য সে সামান্য অনুতপ্তও নয়। দীর্ঘ পরিকল্পনার পর এই কান্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে রাসেল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল রাসেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাসেল মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দিতে বলেন, সাওদা ও তার ভগ্নিপতি আজিমকে হত্যা করার জন্য একটি ধারালো অস্ত্র (দা) তৈরী করেন। আর দায়ে খোদাই করে উভয়ের নাম লেখা ছিলো। ওই ধাড়ালো অস্ত্র দিয়েই সাওদাকে হত্যা করেন তিনি। তার দেয়া জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে আদালতে ২৭ জনের মধ্যে ১৯ স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়ে রায় দেন। এদিকে, রায় ঘোষনার পূর্বে পুলিশী নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় হত্যাকারী রাসেল মিয়াকে। এছাড়া রায় ঘোষনার সময় আদালতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ইমন পরিবর্তনকে জানান, সাওদা হত্যা মামলা পরিচালনার জন্য বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আভাস’র আইন সালিশ কেন্দ্র থেকে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। সাওদা হত্যা মামলা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আভাসের আর্থায়নেই পরিচালিত হয়েছে। আসামী পক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেখানেও আভাস আইনজীবী দ্বারা আসামীর যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকে সেই চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন আভাস আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার তানজিরা আক্তার ও সুপারভাইজ তৌহিদ উদ্দিন আহম্মেদ।

হত্যার পূর্বে রাসেলের লেখা তিনটি চিঠি
সাইদ মেমন ॥ সাওদাকে হত্যা করার পূর্বে প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক রাসেল মাতুব্বর তিনটি চিঠি লিখে রেখেছিলো। পুলিশ সেই চিঠি জর্ডন রোডের রাসেলের মেস থেকে উদ্ধার করেছে। চিঠি তিনটির একটি সাওদার ভগ্নিপতিকে, একটি বাবা-মাকে এবং আরেকটিতে কাউকে উদ্দেশ্যে না করে লেখা হয়েছে। ভগ্নিপতিকে আজীম ভাই, সাওদার বাবা-মাকে শ্বশুড় আব্বা ও শাশুরী মাকে উল্লেখ করেছিলো রাসেল।
সাওদাকে হত্যা করার জন্য ভগ্নিপতি আজীম ও বাবা-মা এবং মামা হাফিজকে দায়ী করেছে রাসেল। এছাড়াও সাওদাকে হত্যা করতে নাসিমা ও মাহিবের মাকে পরামর্শ দাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু পুলিশ এই দুজনকে চিহ্নিত করতে পারেনি।
সাওদার ভগ্নিপতি আজীমকে উদ্দেশ্যে করে লেখা চিঠিতে উল্লে¬খ করেছে ‘ আপনি কিসের জন্য দুটি জীবন নষ্ট করেছেন’। আপনার মতো তো আমার শ্বশুড়ের সম্পদের উপর কোন লোভ নেই। আপনি শ্বশুরের সম্পদ আরো বেশি ভোগ করতে পারেন এই জন্য সাওদাকে নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেলাম।
দীর্ঘদিন সাওদার সাথে প্রেম করা রাসেল চিঠিতে আরো উল্লে¬খ করেছে ওঝার মাধ্যমে তাবিজ করে সাওদাকে ভূলিয়ে দিয়েছেন। সাওদার কানে মিথ্যা কথা বলে বিষিয়ে তুলেছেন। সাওদার জীবন থেকে চলে যেতে মারধর করা হয়েছে বলে চিঠিতে লিখেছে রাসেল।
শ্বশুর আব্বা ও শাশুড়ী মা উল্লে¬খ করে চিঠিতে লিখেছে আপনাদের আব্বা-মা ডাকতাম ‘আপনি সাওদাকে আমার হাতে তুলে দিয়ে বরিশাল এসে বিয়ে করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আবার আপনি বড় জামাতার কথা মতো গরীব বলে ১০ লাখ টাকা কাবিন করতে পারব না বলে বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছেন। জামাতা দিয়ে মারধর করিয়েছেন। আপনি যা করেছেন তাতে মরে যেতে ইচ্ছে করেছিলো। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সাওদাকে ছাড়া যেতে পারবো না বলে তাকে নিয়ে চলে গেলাম।
অপর চিটিতে লিখেছে সম্পর্কের সময় আমরা নামাজ শিক্ষার বই নিয়ে শপথ নিয়েছি বাঁচলেও এক সাথে মরলেও এক সাথে মরব। কিন্তু সেই সাওদা আমাকে এড়িয়ে চলে। রাতের পর রাত অন্যজনের সাথে ফোনে কথা বলে। এটা সহ্য করতে পারি না। নিজে মরে যেতে চাইলে নাসিমা ও মাহিবের মা পরামর্শ দিয়েছে সাওদাকে মেরে নিজে মর। সেই কাজটাই করলাম।
রাসেলকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঘটনার ৭ দিন পর আট দিনের মাথায় রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আতিক মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল। তাদের সাহায্যে করে এক সময়ে কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত ও চট্টগ্রামের বন্দর থানার এসআই মো. শামীম শেখ। ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সাওদাকে হত্যা করে সে। নিজে গ্রেপ্তার হয় ১২ সেপ্টেম্বর।
তাকে গ্রেপ্তার করা এসআই মো. শামীম শেখ জানান, তাদের কাছে গোপন সুত্রের খবর ছিল ঘাতক রাসেল চট্রগ্রামে অবস্থান করছে। এই খবর পাওয়ার পর রাসেলকে গ্রেপ্তারের জন্য মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা সোর্স নিয়োজিত করা হয়। ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় রাসেল ধুমপাড়া মোড় এলাকার শাহ আমানত টেলিকম নামক একটি ফোনের দোকানে ফ্লেক্সিলোড করতে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষামান সোর্স বন্দর থানাকে অবহিত করে। তাৎক্ষনিকভাবে ওই দোকানে গিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর স্বীকার করে, সাওদাকে হত্যা করে কোথাও সে অবস্থান করেনি। তাকে কুপিয়ে ঢাকায় যায়। সেখানে দুদিন এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করে। সে বাস টার্মিনাল ও রেল ষ্টেশনে রাত কাটিয়েছে। পরে সে রাসেল চট্রগ্রামে যায়।
অভিযানিক দলে থাকা এক পুলিশ সদস্য জানায়, গাজীপুরে গার্মেন্টসে কাজ করা বোন ভগ্নিপতির সহায়তা নেয়া হয়েছে। উভয়কে পুলিশ সেখানে স্থানীয় থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা কোন হদিস না জানলেও এক পর্যায়ে রাসেল বোনের মোবাইলে ফোন করে। বোন তখন তার মোবাইলে টাকা দেয়ার জন্য বলে। তখন রাসেল কুলসী দীঘির পাড় ধুমপাড়া এলাকার ওই মোবাইল ফোনের দোকানে যায়। তাৎক্ষনিক সেই তথ্যে এসাআই শামিম শেখকে দেয়া হয়। সে ওই দোকানের পাশে থাকা এক ফাড়ির পুলিশকে অবহিত করে। সে গিয়ে রাসেলকে নিয়ে ফাড়িতে বসিয়ে রাখে। পরে এসআই শামিম শেখসহ অন্যান্যরা গিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে।
সাওদার বাবার রায় কার্যকরের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সাওদা হত্যা হত্যা মামলার রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক ও পরিবারের স্বজনরা। গতকাল সোমবার আদালতে উপস্থিত থেকে মেয়ে হত্যা মামলার রায় শোনেন।
রায় ঘোষনা পরবর্তী সাওদার বাবা আব্দুর রাজ্জাক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে দাড়িয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের এই রায়ে প্রমান হয় যে দেশের মানুষ এখনো ন্যায় বিচার পাচ্ছে। তিনি বলেন, আদালতের এই ন্যায় বিচারে আমার মৃত মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। সে জন্য খুব দ্রুত রায় কার্যকরের দাবীও জানান তিনি।
সেই সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ডের রায় প্রদান করায় আদালতের বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং বাদি পক্ষের আইনজীবী সহ সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিশেষ করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে মামলটি পরিচালনা করায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আভাসের সালিশ ও আইন সহায়তা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সাওদার বাবা আব্দুর রাজ্জাক।
সাওদার পক্ষে আভাসের আইনজীবীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আভাস’র সহযোগিতায় আইনী সহায়তা পেয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্রী সাওদা’র পরিবার। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে এই মামলা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার কথা বলেছেন উন্নয়ন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
আভাস বরিশাল এর প্রোগ্রাম অর্গানাইজার তানজিরা আক্তার জানান, আভাস এর আইন সালিশ কেন্দ্র সাওদা হত্যা মামলাটি পরিচালনার জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করেছে। তাদের অর্থায়নেই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমনকে মামলা পরিচালনায় নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও প্রতিটি ক্ষেত্রেই মামলাটির তদারকি করেছে আভাসের আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার তানজিলা আক্তার ও সুপার ভাইজার তৌহিদ উদ্দিন আহম্মেদ।
তারা জানিয়েছেন, সাওদা হত্যা মামলায় যে রায় ঘোষনা করেছেন তাতে তারা খুশি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে সেখানেও আভাস আইনজীবী দ্বারা আসামীর যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকে সেই চেষ্টা করা হবে।
রাসেলের বাবার দাবি
ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সাওদা হত্যা মামলার রায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তার বাবা হারুন মাতুব্বর। গতকাল সোমবার রায় ঘোষনার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ার কথা জানান তিনি।
এসময় তিনি বলেন, তার ছেলে রাসেল মিয়া ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। একই সাথে আদালতের রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ছেলে পরিস্থিতির শিকার হয়ে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এমনকি তিনি আদালতের কাছে তা স্বীকার করেন। তার পরেও তাকে মৃত্যু দন্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতের কাছে আপিল করবেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আলম পান্না বলেন, বিচারক রায় ঘোষণার পাশাপাশি আপিলের জন্য ৭ দিন সময় দিয়েছেন। তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন জানিয়ে বলেন, জেলা জজ আদালতের রায় বাস্তব সম্মত হয়নি।
রাসেলের শোকরানা
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রায় শুনে আদালতে দু’ হাত তুলে শোকরানা আদায় করেছেন ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী রাসেল মিয়া। এসময় তিনি ভয়ে নিস্তব্ধ হয়ে যান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল সোমবার সাওদা হত্যা মামলার রায় ঘোষনার পূর্বে পুলিশ ভ্যানে জেল থেকে আদালতে হাজির করা হয় হত্যাকারী রাসেল মিয়াকে। তার সামনেই আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক শুনানী শেষে রাসেল মিয়াকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেন। আদেশ শুনে এজলাসে দাড়িয়ে বিমুর্ষ হয়ে পড়েন হত্যাকারী রাসেল মিয়া। এক পর্যায় তিনি দু’হাত তুলে সংক্ষিপ্ত মোনাজাতে শোকরানা আদায় করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা রাসেলকে আদালতের এজলাস থেকে নামিয়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে জেল হাজতে নিয়ে যায়।
এদিকে রাসেল মিয়া সাওদাকে হত্যাকান্ডের ৭ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে তাকে বরিশাল জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এরপর তার জামিনের আসামী পক্ষের আইনজীবী আবেদন করলেও বিচারক তা মঞ্জুর করেনি। এজন্য হত্যাকান্ডের পর গত প্রায় দুই বছর সে জেল হাজতে ছিলো। হাজতবাস কালে তিনি নিয়মিত নামজ রোজা এবং নিয়মিত কোরআন পাঠ করেন। মুখ ভরা দাড়ি এবং পাঞ্জাবি, টুপি হয় তার একমাত্র পোশাক।