প্রতারনার সেফা ডায়গনষ্টিক রুপাতলীতে হেলথ ভিউ নামে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চিকিৎসক হত্যাকারী নগরীর সেই আলোচিত সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির পূনরুত্থান ঘটেছে। চিকিৎসক হত্যা সহ সকল ধরনের অপকর্ম চাপা দিতে তৃতীয় দফায় নাম পরিবর্তন করে এখন “হেল্থ ভিউ” নামে রূপ পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি করা হয়েছে স্থান পরিবর্তনও। কিন্তু পাল্টায়নি দালালি ও অসহায় রোগীদের সর্বস্ব চুষে নেয়ার অভিজ্ঞতা।
সূত্রমতে, নগরীর সাগরদী পোল এলাকার সোনালী ব্যাংকের দ্বিতীয় তলায় সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম শুরু করে শাহীন ওরফে ঝাড়–দার শাহীন নামে পরিচিত ব্যক্তি। কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা ও নামধারী যুবদল নেতা ঝাড়–দার শাহীনের নেতৃত্বে মাদক ও জুয়া সহ সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ডের নিরাপদ আখড়াখানায় পরিনত হয় সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেই সাথে অভিজ্ঞ এবং সনদ প্রাপ্ত কোন চিকিৎসক, নার্স কিংবা টেকনিশিয়ান না থাকা সত্বেও দালালদের সাহায্যে অসহায় ও গরিব রোগীদের ধরে এনে চুষে নেয়া হয় তাদের সর্বস্ব। অবশেষে সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্বরত অবস্থায় খুন হন শেবাচিম হাসপাতালের শিক্ষানবিশ ডাঃ আরিফুর রহমান অর্নব। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্নধর ঝাড়–দার শাহীন ও তার প্রতারক বাহিনী দালালদের আটকের পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয় দালাল নির্ভর সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এর কয়েক মাস যেতে না যেতেই স্বাস্থ্য বিভাগকে ম্যানেজ করে একই স্থানে পূনরায় চালু হয় আলোচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতারনা মুলক কার্যক্রম। তবে তা করা হয় সেফা নাম পরিবর্তন করে এশিয়া ডায়াগনস্টিক নামে।
এদিকে এশিয়া নামের সাথে সাথে দালাল ও মাদকাসক্ত ঝাড়–দার শাহীনের সাথে যোগ হয় কথিত সাংবাদিক ও রূপাতলী এলাকার চিহ্নিত মাদক স¤্রাট সুমন মোল্লার অন্যতম সহযোগী আসাদুজ্জামান মুরাদ। মিডিয়া ও প্রশাসন ম্যানেজের দায়িত্বের পাশাপাশি মালিকানা শেয়ারের মাধ্যমে এশিয়ার সাথে যুক্ত হয় মুরাদ। এর পর আবারো শুরু হয় এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনৈতিক কার্যক্রম। চিকিৎসার নামে রোগীদের জিম্মি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দেয়া হয় কোতয়ালী থানায়। এর প্রেক্ষিতে ঝাড়–দার শাহীন ও নামধারী চিকিৎসক সহ বেশ কয়েকজন দালালকে আটকও করে পুলিশ।
এভাবে চলতে থাকলে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে সিলগালা করে দেয়া হয় এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি। এর ফলে বেশ কয়েক মাস বন্ধ হয়ে যায় এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও শাহীন এবং মুরাদের প্রতারনা। তবে তা বেশিদিন নয়। মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় নতুন নামে পদচারনা শুরু হয়েছে চিকিৎসক হত্যাকারী প্রতিষ্ঠানটির। পূর্বের অপকর্ম ধামা চাপা দিতে এশিয়া নাম পাল্টে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির তৃতীয় দফায় নামকরন করা হয়েছে হেল্থ ভিউ নামে।
রূপাতলীর কয়েকজন দালাল জানায়, ভুয়া সাংবাদিক ও মাদক স¤্রাট সুমন মোল্লার অন্যতম সহযোগী মুরাদ ও ঝাড়–দার শাহীন সহ আরো বেশ কয়েকজন মিলে হেল্থ ভিউ নামকরনের মাধ্যমে নতুন করে প্রতারনা শুরু করেছে। সাগরদী থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে রূপাতলী র‌্যাব-৮ কার্যালয় সংলগ্ন হাউজিং’র প্রবেশদারে বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ কার্যক্রম চলছে। নামকরা বা পরিচিত কোন চিকিৎসক না বসলেও ডাঃ মাহাতাব হোসেন নামে এক চিকিৎসকের কয়েকটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে বরিশাল শেবাচিম হাসাপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিকট চিকিৎসা নিতে আসা গ্রাম-গঞ্জের অসহায় রোগীদের দালালরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে হেল্থ ভিউ নামের কসাই খানায়। চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে রক্ত চোষার ন্যায় তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। মুরাদ ও ঝাড়–দার শাহীন নিজেরাই নিয়ন্ত্রন করছে দালালদের। স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের পার্সেন্টেজের মাধ্যমে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে পূর্বের ন্যায় মাদক ও জুয়ার আসর বসছে বলেও দালালরা নিশ্চিত করেছে।