প্রচারবিহীন বৃক্ষমেলা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কোন প্রকার প্রচার প্রচারনা ছাড়াই শুরু হলো বরিশাল বিভাগীয় বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা। গতকাল মঙ্গলবার র‌্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে নগরীর বান্দ রোড বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এ বৃক্ষমেলার সূচনা হয়।
এর আগে সামাজিক বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল এর যৌথ আয়োজনে সকাল ১০টায় বৃক্ষরোপন অভিযান উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর সার্কিট হাউস চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বৃক্ষমেলা প্রঙ্গনে এসে শেষ হয়।
পরে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সভা কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ ফরাজি, বরিশাল কোষ্টাল অঞ্চলের বন সংরক্ষক অবনী ভূষন ঠাকুর ও বরিশাল মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (সার্বিক) সোয়েব আহম্মেদ।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বরিশালের উপ-পরিচালক বমেন্দ্র নাথ পান্ডে, বৃক্ষ রোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুছ ভূঁইয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কলেজ’র সহকারী অধ্যাপক কামরুন্নাহার মুন্নি।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেবুন্নেছা আফরোজ বেলুন উড়িয়ে এবং লাল ফিতা কেটে ১৫ দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন ঘোষনা করেন।
এবারের বৃক্ষমেলায় ৫০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি বিভিন্ন বৃক্ষ ব্যবসায়ীদের বেচা বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ২০টি স্টল সরকারী। এর প্রতিটিতে করা হয়েছে প্রদর্শনী। তাছাড়া আয়োজকদের পক্ষ থেকে রয়েছে একটি তথ্য কেন্দ্র। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস, বনসাই, ভেষজ, ওষুধী, বনজ এবং ফলজ গাছের চারার সমাহার ঘটেছে।
এদিকে মেলায় আগত বরিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নার্সারী মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, বরিশালে বিভাগীয় বৃক্ষ মেলার আয়োজন করা হলেও নেই কোন প্রচার প্রচারনা। প্রতি বছরই আয়োজক কমিটির উদাসীনতার কারনে প্রচার প্রচারনা হচ্ছে না। যে কারনে দর্শনার্থীরাও মেলায় আসছে না।
নার্সারী মালিকরা আরো জানান, গত বছর ৫শ টাকা দিয়ে স্টল নিতে হয়েছে। কিন্তু এবার একটি স্টল নিতে ৭শ টাকা জমা দিতে হয়েছে। প্রচার-প্রচারনা, মেলার জন্য মাঠ উপযোগী করে তোলার জন্য তাদের কাছ থেকে বর্ধিত হারে টাকা নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ মেলার আয়োজন করলেও নেয়া হয়নি কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমনকি নিজেদের অর্থে কেনা ইট এবং বালু দিয়ে মেলার মাঠ উপযোগী করে তোলা হয়েছে। নার্সারী মালিকদের অভিযোগ আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারনে এবার বড় বড় অনেক বৃক্ষ ব্যবসায়ীরাই বিভাগীয় বৃক্ষ মেলায় স্টল নেয়নি।
জানতে চাইলে বিভাগীয় বৃক্ষমেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুছ ভূঁইয়া বলেন, ভাড়া বাবদ যে টাকাটা আদায় করা হয়েছে তা কোষাগারে জমা হয়েছে। এর বাইরে যেটুকু বরাদ্দ রয়েছে তা দিয়েই সকল আয়োজন করেছেন। তাছাড়া মেলার মাঠে বিভিন্ন স্থানে ভেজা স্থানে বালু ফেলা হয়েছে বলে দাবী জানান তিনি।
আরো বলেন, আমাদের বরাদ্দ সীমিত। যে কারনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য একটি লঞ্চ কোম্পানির কাছ থেকে টি-শার্ট এবং ক্যাপ এর ব্যবস্থা করেছি। তবে প্রচার-প্রচারনা না থাকার অভিযোগের বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবী করে এই বন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের তথ্য অফিস রয়েছে। এখানকার নিজস্ব প্রচার গাড়ির মাধ্যমে বরিশালে বৃক্ষমেলা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারনা চালানো হচ্ছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে মেলার মাঠে দর্শক বাড়বে বলেও দাবী করেন তিনি।