প্রচারনার অভাবে নিঃস্তব্ধ বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর

সিদ্দিকুর রহমান॥ দর্শনার্থী মুখর হচ্ছে না বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর। গত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নগরীর পুরাতন কালেক্টরেট ভবনে জাদুঘরের উদ্বোধনের পর এখনো বাড়েনি দর্শনার্থিদের পদচারনা। চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে আশানুরূপ দর্শনার্থী হচ্ছে না বলে দাবী জানিয়েছেন এখানকার দায়িত্বরতরা।
তবে দর্শণার্থীদের অভিযোগ ভিন্নটা। তাদের দাবী কোন প্রকার প্রচারনা এবং অব্যবস্থাপনার কারনেই উদ্বোধনের প্রায় দুই মাসেও বিভাগীয় জাদুঘর পরিচিত হতে পারেনি বরিশালবাসীর কাছে। তার পরে আবার রয়েছে প্রতœততেœর অভাব।
বিভাগীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা শাহিন আলম জানান, বহুল প্রতিক্ষার পর গত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উদ্বোধন করা হয় বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর-এমপি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর পূনরায় সংস্কারের জন্য পাক্ষিক সময়ের জন্য বন্ধ করা হয় জাদুঘর প্রদর্শন কার্যক্রম। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাস থেকে ১০টাকা দর্শনীর বিনিময়ে জাদুঘর প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তবে বহুল প্রতিক্ষার পর হলেও বিভাগীয় এই জাদুঘরে দর্শনার্থীদের পদচারনা আশানুরুপ কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে গেলো ঈদের পর থেকে এখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে সকালের থেকে বিকেলে দর্শনার্থীদের ভীড় বেশি হচ্ছে। এমনকি স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থীদের আনাগোনা রয়েছে সীমিত সংখ্যক। এখন পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে হয়নি কোন স্কুল প্রোগ্রামও।
এর কারন হিসেবে অনেক দর্শনার্থী জানায়, বরিশালে যে একটি জাদুঘর চালু হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। প্রথম দিক দিয়ে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেন জাদুঘর চালু হবে। তবে পরে চালু হয়েছি কিনা তা খোঁজ নিতে পারিনি। পরবর্তীতে লোকমুখে শুনে তারা গতকাল রবিবার দর্শনির বিনিময়ে জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। তবে এখানে ছবির সংখ্যা বেশি হলেও প্রতœতত্ব স্থাপনার ব্যাপক অভাব রয়েছে। তাছাড়া জাদুঘরটি বরিশালবাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে কোন প্রকার প্রচারনার ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হচ্ছে বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের।
জানাতে চাইলে শাহীন আলম প্রচারনার অভাবের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিভাগীয় জাদুঘর সম্পর্কে নগরীর মানুষই জানানে। তাই তাদের বিভাগের তথ্য সংবলিত এই জাদুঘরটি পরিদর্শনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এছাড়াও বয়স্ক দর্শনার্থীদের সাথে সাথে শিশুরাও আসছে জাদুঘর পরিদর্শনে। শীঘ্রই সাইনবোর্ড ও ব্যানার সহ প্রচারনার মাধ্যমে বিভাগীয় জাদুঘর সম্পর্কে বিভাগের জনগনের মধ্যে তথ্য সমূহ সম্প্রসারিত করা হবে।
এছাড়াও প্রতিটি স্কুল, কলেজগুলোতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে চিঠি দেয়া হবে। যাতে তারা তাদের শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় জাদুঘরটি পরিদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে। এ সময় তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষদের বিভাগীয় জাদুঘরটি পরিদর্শনের জন্য আহবান জানান।
এদিকে জাদুঘর পরিদর্শনে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০টাকা, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকা, বিদেশী পর্যটকদের জন্য ১০০টাকা এবং সার্কভুক্ত দেশ সমূহের পর্যটকদের জন্য ২৫ টাকা প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে। এছাড়াও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য জাদুঘরটি বিনামূল্যে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য বিভাগীয় জাদুঘরের ২ তলায় ৯টি গ্যালারীতে বিভাগের ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক পরিচিতি ও খ্যাতনামা ব্যক্তিদের তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লোকশিল্প এবং বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব সম্পদ ও ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই জাদুঘরে। অন্যদিকে যে ভবনটিতে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর চালু করা হয়েছে, সেই ভবনটিই একটি জাদুঘর বলে মন্তব্য করেছে বিশিষ্ট জনেরা। এদিকে ২০০৩ সালে ভবনটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। এরপর ২০১৫ সালে শুরু হয় জাদুঘরে রূপান্তরের কাজ। পরে ২০০৭ সালে শেষ হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। পরবর্তীতে গত মাসের ৮ জুন সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।