প্রক্সিদাতা ছাত্রলীগ নেতাদের কর্মে উত্তপ্ত নগরী

জুবায়ের হোসন ॥ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে কাউন্সিলরের কোঠা পূরণে প্রক্সি দেয়া নেতারা ছাত্রলীগের মহানগর কমিটির পদ-পদবিধারী দাবি করে খোশ মেজাজে উল্লাসে মেতে উঠেছে। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে এক বছর মেয়াদী ছাত্রলীগের মহানগরের তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হঠাৎ করে পূর্নাঙ্গ হওয়ার দাবী নিয়ে নগরীর পরিবেশ উত্তপ্ত হচ্ছে। এই কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার পরেও এমন গুজবে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার শংকাও করা হচ্ছে। কোন ঘোষণা ছাড়া কাউন্সিলে প্রক্সিদাতা নেতারা পদবিধারী দাবি করে শুভেচ্ছা ব্যানার পোষ্টার করাকে শংকা বাস্তবে রুপ নেয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন। কোন ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, মহানগর ছাত্রলীগের মুখোশধারী কিছু অছাত্র, ভাড়াটে টেন্ডারবাজ, বিবাহিত ও সদ্য ছাত্রদল থেকে ছাত্রলীগে যোগ দেয়া প্রক্সি দেয়া ঢাকা থেকে ফিরে মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির গুজব ছড়িয়ে দেয়। এতে নগর জুড়ে বিতর্ক তৈরি হলেও থেমে নেই তারা। গুজব প্রতিষ্ঠিত করতে আনন্দ মিছিল, উল্লাস, ফুলের শুভেচ্ছা দান, মটর সাইকেল শো-ডাউন, পোষ্টার ব্যানার সাটানো, মিষ্টি বিতরণ সহ নানা কর্মকান্ড শুরু করেছে।
ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ ও ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে কাউন্সিল হয়। ওই কাউন্সিলে ছাত্রলীগের মহানগর কমিটির ২৫ কাউন্সিলর পাঠানোর নির্দেশনা আসে। আর এতে চাপে পড়েন মহানগরের ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ। কারন ৪ বছরে তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ। তখন চাপ এড়াতে নিজেদের অনুসারী কিছু অছাত্র ও টেন্ডারবাজদের কাউন্সিলর হিসেবে প্রক্সি দিতে নিয়ে ঢাকা যায়।
প্রক্সি দেয়া প্রার্থীরা হলো- জহিরুল ইসলাম রেজবি, এমএইচ বাবলু জমাদ্দার, রিয়াজ ভূইয়া, সুজন হাওলাদার, আরাফাত মিশু, মেহেদি হাসান, রিফাত হোসেন রাব্বি, মুশফিকুল আলম বিন্দু, হাসান মোঃ জিহান, হাবিবুর রহমান বাপ্পি, তরিকুল ইসলাম কানন, প্রদীপ দাস, তানজিরুল, দোলন, রাতুল ও পারভেজের মত কিছু চিহ্নিত টেন্ডারবাজ।
সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা জানান, কেন্দ্র থেকে ২৫ জনের জন্য কাউন্সিলরের নাম ও পদবীবিহীন কার্ড পাঠানো হয়। সেখানে প্রক্সিদাতারা নিজেদের নাম ও পছন্দের পদবী উল্লেখ করে কাউন্সিলে অংশ নেয়।
অনৈতিক এই কর্ম করে পার পেয়ে যাওয়ায় তারা ঢাকা থেকে ফিরেই শুরু করে আংশিক কমিটির গুজব ছড়ানো। কিন্তু কেন্দ্র বিষয়টি অস্বীকার করলেও স্থানীয় দু একটি সংবাদপত্রে তাদের এই ২১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির খবর প্রকাশ করা হয়।
এমনকি তারা ২১ সদস্যের কমিটি বললেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ১৪/১৫ জনকে। তবে শুন্যস্থান পুরণ করতে যোগ হয়েছে সাগরদি ব্রাঞ্চ রোডের মোঃ আরিফুর রহমান আরিফ। পদবি পেতে বসে নেই ছাত্রদল থেকে সদ্য ছাত্রলীগে যোগদান করা দুধের মাছিরাও। এতদিন নিজেকে ১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি দাবিদার বলে আসা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রিয়াজুল রহমান রিয়াজ এর একনিষ্ঠ কর্মী মৃধা রাকিবকে দেখা গেছে মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ভূয়া পদবিধারদের ফুলের শুভেচ্ছা দিতে। মোড়ে মোড়ে আনন্দ মিছিল, ফুলের শুভেচ্ছা দান, পোষ্টারিং, ব্যানার টানানো, মোটর সাইকেল মহড়া ও মিষ্টি বিতরণ হচ্ছে। যা হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও এখন রাজনৈতিক পরিবেশকে করছে উত্তপ্ত। তাদের আনন্দ উল্লাসে কোথাও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদককে দেখা না গেলেও সম্মতির সংকেত রয়েছে।
তারা স্পষ্ট কিছু না জানালেও তাদের নাম ব্যবহার করেই ভূয়া আংশিক কমিটির পদবিধারিরা হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর শাখার শেখ রাসেল জানিয়েছে কমিটি না থাকায় তাদের দিয়ে সাময়িক ভোট দানের অধিকার দেয়ার কথা। যা ছিল স্থানীয় ভাষায় ‘ঠ্যাকের মছলা’।
ছাত্রলীগের নব নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জাকির হোসাইন পরিবর্তনকে জানান, অভিযোগ অনুসারে যদি এমন কিছু করা হয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। একই সাথে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মাত্র তারা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি তারা দেখবেন বলেও জানান সাধার সম্পাদক।