প্রকৃতির এবারের ছোবলও প্রতিহত করল প্রকৃতিই

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৭-এর সিডরের ভয়াল ঝড়গুলোর মত এবারো বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা মাঝারী মাপের ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’কে প্রতিহত করল সুন্দরবন সহ উপকূলীয় বনাঞ্চল। রোয়ানু নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই গতকাল শেষ রাতে খুলনা-বাগেরহাটের সুন্দরবন উপকূলে প্রথমে আছড়ে পরে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রায় ৮০ কিলোমিটার। সেখান থেকে ঝড়টি উপকূল ঘেষে ক্রমে পূর্ব উপকূলে এগুতে থাকে। সময় যত গড়াতে থাকে ততই ঝড়টি কুয়াকাটা-কলাপাড়া হয়ে পটুয়াখালী-ভোলা-লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী হয়ে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মধ্যবর্তি সাগর উপকূল হয়ে স্থলভাগে হামলে পড়ে সন্ধ্যা নাগাদ।
কিন্তু সুন্দরবন রোয়ানুর প্রথম আঘাত প্রতিহত করার পরে দিনভরই এ ঝড়ের তীব্রতা আর এর গতিপথে বাধা হয়ে দাড়ায় উপকূলীয় বনাঞ্চল। ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন সহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সরকারি অর্থে দেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে উপকূলীয় বনাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার লবনাম্বুজ বন সহ অন্যান্য বনরাজীও রয়েছে। এসব বনাঞ্চল ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় হেরিকেন, ১৯৮৮-এর ঝড়Ñজলোচ্ছাস ১৯৯১-এর ২৯ এপ্রিলের ভয়াল ঘূর্ণিঝড় সহ ২০০৭-এর সিডরের তান্ডবকেও মোকাবেলা করে জানমালের ক্ষতিকে অনেকটাই হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের দাবী।