প্রকাশক-শিক্ষকদের কাছে জিম্মি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বেশ কয়েকটি প্রকাশনী আর অর্থলোভী শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বরিশালের শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরা। রীতিমত টাকার বিনিময়ে প্রতিটি স্কুলে জোর করে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে গাইড বই। ওই সব প্রকাশনীর বইয়ে অনেক ভুল থাকার পরেও জোর করে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে গাইড। শুধু তাই নয় অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ আবার স্কুলকে দোকান বানিয়ে ফেলেছেন। শিক্ষকরা স্কুলেই বিক্রি করছেন নিষিদ্ধ গাইড বই। ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওই বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও অভিভাবকরা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বেশ কিছু প্রকাশনীর বই। প্রকাশনীর মধ্যে রয়েছে স্কয়ার, নবদূত, এডভান্সড। যেখানে গাইড বই বিক্রি পুরো নিষিদ্ধ সেখানে খোদ স্কুলেই বিক্রি করা হচ্ছে সব শ্রেণির গাইড বই। বরিশালে টাকা দিয়ে শিক্ষকদের কিনে নিয়েছেন স্কয়ার পাবলিকেশন্স। এখানে তাদের বই পড়ার জন্য বেশি জোরাজুরি করা হচ্ছে। নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরোটা নির্ভর হয়ে পড়েছেন স্কয়ারের বইয়ের উপর। এই দু, স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবার জন্য স্কয়ার পাবলিকেশন্সের গাইড বই বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ক্লাসে শিক্ষকরা ওই প্রকাশনীর বই ক্রয়ের জন্য সব শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। এর মধ্যে বেশ জোরাজুরীর ঘটনা ঘটেছে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এ স্কুলে স্কয়ার পাবলিকেশন্সের বইয়ের দোকান খুলে বসা হয়েছে। স্কুলে ওই প্রকাশনীর বই রেখে যাওয়া হয়েছে আর তা বিক্রি করছেন শিক্ষকরাই। ওইসব বই দোকানের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে স্কুলে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদেরও বাধ্য করা হচ্ছে গাইড কিনতে। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন আমাদেরও স্কয়ার পাবলিকেশন্সের গাইড কেনার আগ্রহ না থাকলেও কিনতে হচ্ছে। স্কুল থেকে ছেলে মেয়েদেরও বলে দেয়া হচ্ছে টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য। আর না নিলে শিক্ষকরা নানা ধরনের কথা শুনাচ্ছেন। এই বাচ্চাদের মন ভেঙ্গে যায়। একাধিক সূত্র জানায়, স্কয়ার পাবলিকেশন্সের পক্ষ থেকে এবার অনেক স্কুলে দু’লাখ করে টাকা দেয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে শিক্ষকরাও ওই পাবলিকেশন্সের বই কিনতে বাধ্য করছেন। নগরীর হালিমা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ে বিগত বছরে স্কয়ারের বই বাধ্যতামূলক থাকলেও এবার সেখান থেকে সওে এসেছেন তারা। স্কুল ম্যানেজিং কমটির সদস্য শাহিন সিকদার স্কুলে বলে দিয়েছেন যারা যে বই কিনতে চায় সেই বই কিনতে পারবে। এবার এ স্কুলে গাইড বই ক্রয়ে কোন ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ ৫ম শ্রেণির ইংরেজি গ্রামার স্কয়ার পাবলিকেশন্সের। এ স্কুলে অন্যান্য শ্রেণির জন্য ছাত্রীদের নবদূত ও এডভান্সড গাইড কিনতে বলা হয়েছে। জিলা স্কুলে অবশ্য স্কয়ার পাবলকেশন্সের বই চলছেনা। এ স্কুলে চলছে নবদূত ও এ্যাডভান্সড পাবলিকেশন্সের বই। যোগাযোগ করা হলে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এমনিতেই সব ধরনের গাইড বই নিষিদ্ধ। সেখানে শিক্ষকদের আরো অনেক সচেতন হওয়া দরকার। শিক্ষকদের উচিৎ গাইড বই কিনতে সবাইকে নিরুৎসাহিত করা। এটা তাদের নীতি নৈতিকতা থেকেই করা দরকার বলে আমি মনে করি। এখন কোন স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি গাইডের নাম বলে দিয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই সেটা অন্যায়। এ ব্যাপারে আমরা কোন ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রামের স্কুলে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে যেন স্কুলটাই কিনেছে স্কয়ার। শিক্ষকরা মাত্র ২০ হাজার টাকা পেয়েই শিক্ষার্থীদের ধরিয়ে দিচেছন স্কয়ারের বই। তবে এখানে শিক্ষকরাই যে দায়ী তা নয় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনেক লোককেও টাকা দিচ্ছে বেশ কিছু পাবলিকেশন্স। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ৫ম শ্রেণির প্রশ্নের মানবন্টন কি হবে সেটা শিক্ষকরা জেনেছেন ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আর স্কয়ার পাবলিকেশন্স জানুয়ারিতেই মানবন্টন কওে বই বের করেছে। শিক্ষকরা ক্লাসে বলে দিচ্ছেন ওই পাবলিকেশন্সের বই থেকেই সব প্রশ্ন আসবে। আর এমন কথা বলার পর শিক্ষার্র্থী-অভিভাবকরাও হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন স্কয়ার, নবদূত ও এডভান্সের দিকে। অথচ এ সব বই মানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে ভুলেরও ছড়াছড়ি।