পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি

জুবায়ের হোসেন॥ চূড়ান্ত দিনক্ষন নির্ধারিত না হলেও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে পৌরসভা নির্বাচন শুরু হবে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীরা প্রচার ও প্রার্থীতা ঘোষনা করে আটঘাট বেধে মাঠে নেমেছে। ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যেই শুভেচ্ছা ব্যানার, বিলবোর্ড, হালকা পাতলা গণসংযোগ করে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ করছে। একই সাথে যার যার স্থানের স্থানীয় নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে নিজেকে প্রথম কাতারের প্রার্থী হিসেবে প্রকাশ করতে চালাচ্ছে দৌড়ঝাঁপ। অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোন নির্ধারিত নির্দেশনা না আসলেও বসে নেই বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনেকটা প্রকাশ্যে এসেই তারাও জাহীর করছেন নিজেদের প্রার্থীতা। তাদের মধ্যে অনেকের প্রস্তুতি মোটামোটি এমন যে নির্দেশ এলে তো ভাল আর না এলে দলের বাইরে গিয়ে যত্রতত্র প্রার্থী হিসেবে যোগ দিবেন নির্বাচনে। আর বিএনপির প্রার্থীদের এই কাজে মোটামুটি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মৌন সম্মতিও দিচ্ছেন সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক বিএনপি নেতারা।
সূত্রমতে, নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয় প্রতীক নিয়েই স্থানীয় সরকার (পৌর) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করেছে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। এতে হুট করেই ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য ও ইচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। তাদের সাথে প্রথমে চাপা অবস্থায় দৌড় ঝাঁপ চালালেও ধীরে ধীরে মোটামুটি প্রকাশ্যেই এসে পড়ছে বিএনপির নেতারা। বিভাগের ২৩ পৌরসভাই আ’লীগের ২/৪জন প্রার্থীদের সাথে আছে বিএনপির দু’এক জন। এ বিষয়ে বানারীপাড়া গৌরনদী, বরগুনা, ঝালকাঠিতে নির্বাচনের অবস্থার বিষয়ে সেখানকার প্রতিনিধিদের তথ্যানুযায়ী, আ’লীগের প্রার্থীদের কোন অভাব নেই। সাবেক, বর্তমান পদবীদার বা পদবিহীন সকলেই চালাচ্ছেন জোর নিব্র্াচনি প্রস্তুতি। তবে এর সাথে মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে বিপর্যস্ত বিএনপি নেতারা প্রস্তুত আছে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য। জন সমর্থনেও পিছিয়ে নেই তারা। কেউ কেউ পর্দার আড়ালে থেকে কেউবা প্রকাশ্যেই দাবী করছেন প্রার্থীতা। বানারীপাড়ায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাষ্টার। তিনি পরিবর্তনকে জানান, পূর্বেও তিনি দলের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন। এবারও দল চাইলে থাকবেন। দলের সিদ্ধান্ত ও পূর্বের ন্যায় প্রহসনের নির্বাচন না হলে তিনি অবশ্যই একজন প্রার্থী। বরগুনায় নির্বাচনের বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির আহবায়ক নুরুল আমীন, এবং অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এদের মধ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলীম এর আশীর্বাদ পুষ্ট প্রার্থী নুরুল আমীন। এরা সবাই কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষা তবে প্রস্তুতি তাদের শতভাগ। আলাপকালে তারা জানান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই মূখ্য। তবে নির্বাচনে তাদের স্ব স্ব স্থান থেকে জনপ্রিয়তা থাকায় আগ্রহী তারা। গৌরনদীতে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ নূর আলম হাওলাদার এবং উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন মিয়া। তারাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানিয়েছেন ইতিবাচক সাড়া। তবে তাদের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নির্ভর বলে জানান তারা। সব মিলিয়ে তারা প্রস্তুত আছেন এখন অপেক্ষা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের। এমনই নির্বাচনী হালচাল অন্যান্য সকল পৌরসভা গুলোতেও নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য সব পৌরসভাতেই প্রস্তুত বিএনপি প্রার্থীরা। তবে কেন্দ্রের সম্মতির পরেও তাদের শংকা পূর্বের ন্যায় প্রহসনের নির্বাচনের। এর পরেও সমর্থকদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। এজন্য তারা প্রকাশ্যে না হলেও চালাচ্ছেন ব্যক্তিগত প্রচার প্রচারনা। এ বিষয়ে কেন্দ্রিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডঃ মজিবর রহমান সরোয়ার এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কেন্দ্রের কোন নির্দেশনা পাননি। তাই প্রস্তুতিও নেই। তবে আগ মুহূর্তেও যদি নির্দেশ পান তবে, যে অবস্থায় আছে প্রার্থীরা সেই অবস্থাই অংশ নেবে পৌরসভার নির্বাচনে।