পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের শেষ সময়ে রূপালী ইলিশের আমদানিতে রমরমা হয়ে উঠেছে নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (ইলিশ মোকাম)। শিকারের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার ৫ দিন আগে গতকাল রোববার মণকে মণ ইলিশ প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করেছে মৎস্যজীবীরা। গত ৮-১০ দিন ধরে সমুদ্র ও বিশেষ করে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন আটশ’ থেকে এক হাজার মণ পর্যন্ত ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ট্রলারযোগে আসা বিভিন্ন আকারের ইলিশ রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। আগামি ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পূর্বে এমন প্রাপ্তিকে আশির্বাদ হিসেবে দেখছেন মৎস্যজীবীরা। গতকাল রোববার পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। ইলিশের দাম অনেকটাই সাধ্যের মধ্যে থাকায় সকল শ্রেণির ক্রেতাদের দেখা গেছে হাসিমুখে মাছ কিনে বাড়ি ফিরতে। গত ৮-১০ দিনের মধ্যে শুক্রবার সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ হাজার মণ ইলিশ এসেছিল অবতরণ কেন্দ্রে।
মাছের দাম সম্পর্কে আলাপকালে মেসার্স লিয়া মৎস্য আড়ৎ এর সত্বাধিকারী ও রপ্তানীকারক কমিশন এজেন্ট মো. নাসির উদ্দিন মিয়া জানান, ইলিশ শিকারে সরকারের নিষেধাজ্ঞার কঠোর পদক্ষেপের কারণেই জালে ইলিশের পরিমাণ এমনটা বেড়েছে। বিগত ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে এবছর এলসি সাইজের প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে, যা বিগত বছর গুলোতে এতটা ছিল না। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পাইকারী দরে তিনশ’ থেকে ৪শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। ৪শ’ থেকে ৫শ’ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়, গ্রেড সাইজ ইলিশের কেজি দর পাইকারীতে বিক্রি হচ্ছে ১০৩০ টাকা এবং এলসি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ১২শ’ থেকে সর্বোচ্চ ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইলিশের এমন প্রাপ্যতায় এবছর সব আড়ৎদার থেকে শুরু করে শ্রমিকরাও সন্তুষ্টিতে ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করে চলেছে। সকাল থেকে রাত অব্দি কাজ করার পরেও তারা পরিবারের জন্য দু-একটি ইলিশ সহ অর্জিত পর্যাপ্ত অর্থ নিয়ে হাসিমুখে ঘরে ফিরতে পারছে।
অন্যদিকে ইলিশের আমদানিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরফকল শ্রমিকেরা। প্রতিদিন প্রচুর চাহিদা থাকায় তারা বরফ সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় বেশ কয়েকদিন থেকে বরফ তৈরিতে বেগ পেতে হচ্ছে বরফকল মালিকদের।