পূজায় পুলিশের পাঁচ দিনের চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজ থেকে শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্নের জন্য আজ থেকে প্রতিটি মন্ডপসহ নগরীতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন শুরু করবে পুলিশ। এই দায়িত্ব পালন আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মন্ডপ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় মহানগর পুলিশ চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশের সাথে সাথে প্রতিটি মন্ডপে সার্বক্ষনিকভাবে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া র‌্যাবের টহল দল ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম বাড়তি হিসেবে মজুদ থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার মহানগর উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) কার্যালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমপি কমিশনার মো. লুৎফর রহমান মন্ডল। এসময় শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে বিএমপি পুলিশের নেয়া নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি। সভায় জানানো হয়েছে, এবার মহানগরী এলাকায় ৬৩ মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সার্বজনিন পূজা মন্ডপ রয়েছে ২৯টি। মোট পূজা মন্ডপের মধ্যে ১২টি মন্ডপকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মহানগর পুলিশ। এছাড়া আরো ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ২১টি মন্ডপ সাধারণ। মোট মন্ডপের মধ্যে কোতয়ালী এলাকায় ২৭টি, বন্দর থানা এলাকায় ১০টি, বিমানবন্দর থানা এলাকায় ১৬টি, কাউনিয়া থানা এলাকায় ১০টি।
মন্ডপগুলোতে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন বিএমপি কর্মকর্তারা। তারা বলেন, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে সর্বোচ্চ ৬ জন করে, কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে ৩ জন করে এবং সাধারণ মন্ডপে ২ জন করে পুলিশ সদস্য সার্বক্ষনিক হিসেবে মোতায়েন থাকবে। পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৬০ জন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে পুলিশ ৬৭৯ জন এবং আনসার সদস্য থাকবে ৩৮১ জন। ৬৪৯ জন পুরুষ পুলিশ সদস্য’র পাশাপাশি পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করবে ৩০ জন নারী পুলিশ সদস্য।
মতবিনিময় কালে মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোন ভাবে মাদক সরবরাহ করা যাবে না। অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতিকরে মাইক কিংবা বাদ্য যন্ত্র বাজানো যাবে না। তাছাড়া পূজা কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবী এবং প্রশাসন সহ সকলের সাথে আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে যোগাযোগ রাখতে কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি দু’জন করে কল ম্যান রাখতে হবে। এছাড়া বিসর্জনের সময় যাতে করে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সেজন্য সূর্য অস্তের আগেই প্রতিমা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে হবে বলেও দিক নির্দেশনা দেন কমিশনার।
এদিকে মতবিনিময় সভায় র‌্যাব- এর পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকা উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আ. রাজ্জাক বলেন, পূজা উপলক্ষে মহানগরী সহ তাদের আওতাধীন প্রতিটি জেলায় র‌্যাবের বিশেষ টহল দল থাকবে। এছাড়াও পূজার দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি থাকবে গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরাও।
জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূজারী এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মোটর সাইকেলে উৎশৃঙ্খল যুবক ও ইভটিজারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।