পূজায় নগরীতে পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আসন্ন শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। দুর্গা পূজায় মহানগরীর আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক, পূজারী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি মন্ডপে নেয়া হয়েছে চার স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন সহ¯্রাধিক পুলিশ এবং আসনার বাহিনী। সেই সাথে র‌্যাবের টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি থাকবে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা।
গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) এর কার্যালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমপি কমিশনার মো. লুৎফর রহমান মন্ডল। এসময় শারদীয় দুর্গা উৎসবকে ঘিরে বিএমপি পুলিশের নেয়া নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি। সভায় জানানো হয়েছে, এবার বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬৩টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সার্বজনিন পূজা মন্ডপ রয়েছে ২৯টি। মোট পূজা মন্ডপের মধ্যে ১২টি মন্ডপকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ। এছাড়া আরো ৩০টি গুরুত্বপূর্ন ও ২১টি মন্ডপ সাধারণ। মোট মন্ডপের মধ্যে কোতয়ালী এলাকায় ২৭টি, বন্দর থানা এলাকা ১০টি, বিমানবন্দর থানা এলাকায় ১৬টি, কাউনিয়া থানা এলাকায় ১০টি।
মন্ডপ গুলোতে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন বিএমপি কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ১৩২ ধরনের পুলিশ এবং আসনার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৬০ জন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এর মধ্যে পুলিশ ৬৭৯ জন এবং আনসার সদস্য থাকবে ৩৮১ জন। ৬৪৯ জন পুরুষ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করবে ৩০ জন নারী পুলিশ সদস্য।
মতবিনিময় কালে মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোন ভাবে মাদক সরবরাহ করা যাবে না। অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতিকরে মাইক কিংবা বাদ্য যন্ত্র বাজানো যাবে না। তাছাড়া পূজা কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবী এবং প্রশাসন সহ সকলের সাথে আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে যোগাযোগ রাখতে কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি দু’জন করে কল ম্যান রাখতে হবে। এছাড়া বিসর্জনের সময় যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সে জন্য সূর্যাস্তের আগেই প্রতিমা নির্ধারিত স্থানে পৌছতে হবে বলেও দিক নির্দেশনা দেন কমিশনার।
এদিকে মতবিনিময় সভায় র‌্যাব- এর পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকা উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আ. রাজ্জাক বলেন, পূজা উপলক্ষে মহানগরী সহ তাদের আওতাধীন প্রতিটি জেলায় র‌্যাবের বিশেষ টহল দল থাকবে। এছাড়াও পূজার দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি থাকবে গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরাও।
অপরদিকে বরিশাল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূজারী এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মোটর সাইকেলে উৎশৃঙ্খল যুবক ও ইভটিজারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. হাবিবুর রহমান খান, উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম আব্দুর রউফ খান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ, মহানগর পুলিশের মুখপাত্র আবু সাঈদ, সহকারী কমিশনার (কোতয়ালী) মো. আনসার উদ্দিন, এসি বিমান বন্দর মো. আজাদ রহমান, এসি কাউনিয়া আসমা আক্তার, এসি বন্দর এনায়েত হোসেন, আনসার ভিডিপি’র জেলা কমান্ডার মো. কামাল হোসেন, পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সহকারী ম্যানেজার প্রকৌশলী আজিজুর রহমান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন রাখাল চন্দ্র দে, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নারায়ন চন্দ্র দে নারু, সহ-সভাপতি গোপাল সরকার, দিলিপ কুমার দে, মুকুল মুখার্জী, কিশোর কুমার দে প্রমুখ।