পুলিশ প্রেমিকের প্রতারনায় দুকুল হারানোর প্রেমিকার আতœহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পুলিশ প্রেমিকের বিয়ের প্রলোভনে নব স্বামীকে তালাক ও অবৈধ শারীরিক মেলামেশার পর প্রতারনা করায় ইদুরের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক কলেজ ছাত্রী। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর লাইন রোড কোতয়ালী মডেল থানা সংলগ্ন সদর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। মুমুর্ষ অবস্থায় কলেজ ছাত্রী সুমি আক্তার (১৯) কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা অনেকটা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা। সুমি বরগুনার বেতাগী উপজেলার উত্তর চাঁদখালী গ্রামের শাহ আলম মৃধার মেয়ে এবং বরগুনা সরকারী কলেজে দ্বাদস শ্রেনীর ছাত্রী।
আত্মহত্যার চেষ্টাকারী কলেজ ছাত্রী সুমি জানায়, বেতাগী উপজেলার গিলাতলী গ্রামের ফরিদ এর ছেলে পুলিশ কনস্ট্রাবল আতিকুর রহমান লিমন। তিনি জেলা পুলিশের সদর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। গত দুই বছর পূর্বে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে পুলিশ কনষ্ট্রাবল আতিক সদ্য বিবাহিত ঐ কলেজ ছাত্রী সুমিকে পরকিয়ার ফাঁদে ফেলে। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলভন দেখিয়ে হাতে মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই সুমিকে দিয়ে তার নব বিবাহিত দরজী স্বামী রাজা মিয়াকে তালাক দেওয়ায়। এর পরে শুরু হয় পুলিশ সদস্য আতিকুর রহমান লিমন কলেজ ছাত্রীকে নিয়ে রঙ্গ খেলা।
সুমি জানায়, গত দু’ বছর যাবত আতিক এর সাথে তাদের প্রেম চলে আসছিলো। প্রথম স্বামী পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ গাবুয়া গ্রামের রাজা মিয়াকে তালাক দেয়ার দুই মাস পরেই ভ’য়া রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে তাকে বিয়ে করে। আতিক বরিশাল সদর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে দায়িত্বরত থাকা কালে বিভিন্ন সময় সুমি নগরীতে আসে। তারা বহুবার নগরীর বিভিন্ন হোটেলে রাত্রিযাপন এবং শারীরিক মেলামেশা করে।
এদিকে সম্প্রতি সুমি বিয়ের জন্য আতিকের প্রতি চাপ সৃষ্টি করে। আর সেই থেকে বেরিয়ে আসে পুলিশ সদস্য প্রতারক আতিকের মুল চরিত্র। সে প্রথমত কলেজ ছাত্রী সুমিকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অপারাগতা প্রকাশ করে। দ্বিতীয়ত সে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে সুমিকে ভ’লে যেতে বলে। এ নিয়ে অনেকদিন ধরে তালবাহানা করে আসছে প্রতারক পুলিশ সদস্য আতিক।
অতঃপর শুক্রবার সুমি বরিশাল জেলা পুলিশের সদর সার্কেল এসপি সুদিপ্ত সরকারকে বিষয়টি অবহিত করে। তিনি গতকাল দুই পরিবারের উপস্থিতিতে মিমাংশার কথা বলেন। সে অনুযায়ী কলেজ ছাত্রী সুমি তার বড় বোন শাহিনুর বেগমকে নিয়ে গতকাল সকালে সদর সার্কেল এসপি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে পুলিশ সদস্য আতিক ও তার মা উপস্থিত ছিলেন। সার্কেল এসপি সুদিপ্ত সকলের উপস্থিতিতে সুমির কাছে ঘটনা সুনে এর প্রমান দাবী করেন। কিন্তু সুমি আতিকের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কোন প্রমান দেখাতে পারেনি। সেই সুযোগে প্রতারক পুলিশ সদস্য আতিক সুমিকে চেনে না বলে দাবী করে। এসময় ক্ষোভ ও অভিমানে সার্কেল এসপি সুদিপ্ত মন্ডল এর সামনেই সাথে থাকা ইদুরের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় বলে সুমির বড় বোন শাহিনুর জানিয়েছেন। পরে সার্কেল এসপির ব্যবহৃত গাড়িতে মুমুর্ষ অবস্থায় সুমিকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।
শেবাচিম হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ হাবিবুর রহমান জানান, কলেজ ছাত্রীকে ষ্টোমাক ওয়াশের মাধ্যমে বিষ বের করে ফেলা হয়েছে। তবে তার আশংকা কাটেনি। ২৪ ঘন্টা অতিবাহীত হলে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।