পুলিশ পরিচয়ে পলায়ন আবারো দিনে দুপুরে ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আবারো দিনে দুপুরে বিকাশের টাকা ছিনতাই হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে অস্ত্রের মুখে বিকাশ এজেন্টের ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার রেশ কাটতে না কাটতে এবার হয়েছে ৫ লাখ টাকা ছিনতাই। গতকাল রোববার দুপুরে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের খয়রাবাদ সেতুর ঢালে তুর্ষ ফিলিং ষ্টেশনে (পেট্রোল পাম্প) ওই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের বাট দিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিকাশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি হলেন ডিলার সাদ সাঈদ এন্টারপ্রাইজের বিপনন কর্মকর্তা ইহসানুল আমিন সোহান। সে নগরীর নিউ সার্কুলার রোডের নূরুল আমিনের ছেলে। নগরীর দিকে পালিয়ে আসা ছিনতাইকারীরা পুলিশ পরিচয়ে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর টোলঘর এলাকা পার হয়েছে। এর আগে একই ডিলারের সদর উপজেলার এ আর খান বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
আহত ইহসানুল আমিন সোহান জানান, সকালে নগরীর বাজার রোড এলাকার ডিলার কার্যালয় থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে কর্মস্থল বাকেরগঞ্জ সদরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। দুই মোটর সাইকেলে তিনি, সহকর্মী হাসান, রাসেল ও নব্য যোগ দেয়া একজন সহ মোট ৫ জন ছিলন। খয়রাবাদ সেতু পার হওয়ার পর তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন তার সাথের মোটর সাইকেলের গতিরোধের চেষ্টা অপর দুই মোটর সাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। বাজাজ পালসার ও প্লাটিনা ব্রান্ডের মোটর সাইকেলে অরোহী হিসেবে ৫ দুর্বৃত্ত ছিল। তাদের গতিরোধের চেষ্টা ব্যর্থ করে সহকর্মিরা তুর্য পেট্রোল পাম্পে প্রবেশ করে। ঘটনার কারন জানতে তার মোটর সাইকেল থামিয়ে ছিনতাইকারীদের খপ্পড়ে পড়েন। রক্ষার জন্য চিৎকার দিয়ে কোন রকম তিনি পাম্পে প্রবেশ করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তার সাথে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার জন্য টানাহেচড়া শুরু করে। তখন তারা মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে। এতেও ব্যর্থ হয়ে তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তিনি হাত দিয়ে দিয়ে ফেরান। ব্যাগ না ছাড়ায় তার বাম পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ব্যাগের বেল্ট কেটে তা ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা নগরীর দিকে পালিয়ে যায়। সহকর্মী ও পাম্পের লোকজনের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন সোহান। এমনকি টোল ঘরে অবহিত করা হলেও তারা ছিনতাইকারীদের আটকে রাখতে পারেনি। ছিনতাইকারীরা পুলিশ পরিচয়ে সেখান থেকে পালিয়েছে। এ ঘটনায় বিকাশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলাসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
সুপারভাইজার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, দুটি মটরসাইকেলে বিপনন কর্মকর্তারা ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে বাকেরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ছিনতাইকারী ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে।
ডিলার একরামুল হুদা বাপ্পি জানান, মুঠোফোনে বিপনন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেয়ে ্যাব ও থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। নিজ উদ্যোগে মটরসাইকেল দুটিকে আটক বা সনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। টোলঘরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে পার হয়েছে। এমনকি আমতলার মোড় থেকেও একই পরিচয়ে তারা সার্জেন্টেদের কাছ থেকে চলে গিয়েছে।