পুলিশের ঘুষ তহবিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-এআইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মহানগর পুলিশের ঘুষের তহবিল গঠনের ঘটনার দায় পুলিশ বাহিনীর একার নয় দাবি করে অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (আইজিপি) মোখলেচুর রহমান বলেন, যারা ঘুষ তহবিল গঠনে জড়িত তাদের দায় নিতে হবে। শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, ফৌজদারী আইনেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গতকাল সোমবার রাতে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এআইজিপি মোখলেচুর রহমান বলেন, ঘুষ তহবিল কেলেংকারীর মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পুলিশ জনবান্ধব। পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।
পুলিশ তথ্য না দেয়ার চেষ্টার সাংবাদিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এআইজি সাফাই গেয়ে বলেন, পেশাগত সমস্যার কারনে অনেক সময় তথ্য দিতে পারে না। তাই তিক্ততার সম্পর্ক তৈরি হয়।
তাই সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে পুলিশের সকল ধরনের তথ্যের জন্য মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সেল দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এআইজিপি।
রাত আটটায় বরিশাল প্রেসক্লাবে তিন তলায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি কাজী নাসিরউদ্দিন বাবুল।
প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক মুরাদ আহম্মেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ডিআইজি হুমায়ন কবির, উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুর রউফ, ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, সৈয়দ রেজা চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাবের পুলক চ্যাটার্জি, সাবেক সভাপতি এসএম ইকবাল, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মিরাজসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ।
এর আগে এআইজিপি মোখলেচুর রহমান পুলিশ লাইনসে ড্রিল সেভ এ কমিউনিটি পুলিশিং, সার্ভিস ডেলিভারী সেন্টার এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ গ্রহন করেন।
সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এআইজিপি মোখলেচুর রহমান বলেন, পুলিশের একার পক্ষে মাদক দূর করা সম্ভব নয়। মাদক নির্মূলে সীমান্ত এলাকা বন্ধ রাখতে হবে।
পুলিশ সুপার এসএম আকতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিআইজি হুমায়ন কবির ও পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আকরাম হোসেন, ইউএনডিপির পুলিশ সংষ্কার কর্মসূচীর বিশেষজ্ঞ ভয়চেক কপ্রোভিচ ও রোজিয়া খন্দকার ইভা।
এর আগে মোখলেসুর রহমান গৌরনদী মডেল থানার সার্ভিস ডেলিভারি সেন্টার উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, মানুষ মডেল না হলে মডেল থানা করে কোন লাভ হবেনা। এজন্য তিনি সেবার মাধ্যমে পুলিশকে সাধারন মানুষের বন্ধু হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুলিশ সদস্যদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারন করে আইজিপি বলেন, রক্ষক কখনো ভক্ষক হতে পারে না। তাই কোন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকের সাথে জড়িত কিংবা যেকোন ধরনের দুর্নীতি করার অভিযোগ পেলে তাকে সাধারন অপরাধীদের মতো গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে পাঠানো হবে।
গুটি কয়েক পুলিশ সদস্যকে উল্লেখ করে বলেন, তাদের ঠিক করতে হবে তারা কি চাকুরি চান নাকি ঘুষ চান। কারণ তাদের জন্য পুরো বাহিনী আর অপবাদ নেবে না।
তিনি জানান, দেশের আরো ৩৮ থানায় সার্ভিস ডেলিভারী সেন্টার করার কাজ চলছে।
এআইজিপি এছাড়াও কোতয়ালী মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার পরিদর্শন করেন। রাতে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।